Ajker Patrika

রাস্তায় প্রকাশ্যে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০০: ৪৬
রাস্তায় প্রকাশ্যে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় পারিবারিক কলহের জেরে প্রকাশ্যে রাস্তায় এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় পারিবারিক কলহের জেরে প্রকাশ্যে রাস্তায় এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন তাঁর স্বামী। স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীও নিজের পেটে ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকালে উত্তর বচ্চি পরগনার সোদপুর স্কুল রোড এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ওই নারীর নাম গীতা দাস এবং অভিযুক্ত স্বামীর নাম সুভাষ দাস। সুভাষ উত্তর চব্বিশ পরগনার নাজাত এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে গীতা ও সুভাষের বিয়ে হলেও গীতার পরিবার তাঁদের এই বিয়ে কোনোভাবেই মেনে নেয়নি। বিয়ের পর থেকে এই দম্পতি সোদপুরের স্কুল রোডে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন। আজ সকালে প্রকাশ্যে রাস্তায় গীতার ওপর ধারালো ছুরি নিয়ে হামলা চালান সুভাষ। তিনি গীতার শরীরের বিভিন্ন অংশে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকেন।

রাস্তায় এই ঘটনা দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন এবং সুভাষকে থামানোর ও তাঁর হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্ষিপ্ত সুভাষের হাত থেকে গীতাকে রক্ষা করতে তাঁরা ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় গীতা রাস্তার ওপরেই লুটিয়ে পড়েন। স্ত্রীকে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকতে দেখে সুভাষ সঙ্গে সঙ্গে ওই একই ছুরি দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

ঘটনার পরপরই রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গীতা দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় সুভাষ দাসকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

স্থানীয় প্রতিবেশীদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে সুভাষ প্রায়ই গীতার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। গীতা এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে বারবার প্রতিবাদ করেছিলেন এবং একপর্যায়ে তিনি এই বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সুভাষ কোনোভাবেই গীতাকে ছেড়ে দিতে রাজি ছিলেন না। এই বিরোধের জেরে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত