Ajker Patrika

রাশিয়ার তেল কিনতে ভারতকে সাময়িক ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
রাশিয়ার তেল কিনতে ভারতকে সাময়িক ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের টানাপোড়েনের মাঝেই ভারতের জন্য সাময়িক স্বস্তির খবর। আজ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলোকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহে ভারতের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বাড়ল।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অফিস অব ফরেইন অ্যাসেটস কন্ট্রোল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘২০২৬ সালের ৫ মার্চ পর্যন্ত জাহাজে লোড করা রাশিয়ার উৎপত্তির অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ভারতে সরবরাহ ও বিক্রির অনুমতি’ দিয়ে রাশিয়া-সম্পর্কিত একটি লাইসেন্স জারি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার আওতায় থাকা জাহাজ থেকেও লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই অনুমতি কার্যকর থাকবে ২০২৬ সালের ৩ এপ্রিল দিনশেষ পর্যন্ত। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরিহার্য অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি নীতির ফলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের প্রবাহ অব্যাহত রাখতে ট্রেজারি বিভাগ ভারতীয় রিফাইনারিগুলোকে রাশিয়ার তেল কেনার অনুমতি দিয়ে ৩০ দিনের একটি সাময়িক ছাড় দিচ্ছে। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে স্বল্পমেয়াদি একটি ব্যবস্থা। কারণ এতে রাশিয়া সরকারের বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা হবে না। এটি কেবল সমুদ্রে আটকে থাকা তেল সম্পর্কিত লেনদেনের অনুমতি দেয়।’

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘ভারত যুক্তরাষ্ট্রের অপরিহার্য অংশীদার। আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করছি, নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের তেল কেনা আরও বাড়াবে। এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে জিম্মি করার ইরানের প্রচেষ্টার কারণে তৈরি হওয়া চাপ কিছুটা কমাবে।’

ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত নভেম্বর রাশিয়ার তেল কোম্পানি লুকওয়েল ও রোজেনেফট ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর প্রভাবে ভারতে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের আমদানি গত জানুয়ারিতে নেমে আসে দৈনিক প্রায় ১১ লাখ ব্যারেলে, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। মার্কিন শুল্ক থেকে স্বস্তি পেতে নয়াদিল্লি আমদানিতে সমন্বয় আনায় ভারতের মোট তেল আমদানিতে মস্কোর অংশীদারত্ব কমে দাঁড়ায় ২১ দশমিক ২ শতাংশে। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে সেই অংশ আবার বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।

এদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় বড় তেলক্ষেত্রে হামলার কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেল উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ ইরান অবরোধ করেছে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালির দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ থাকার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৩ দশমিক ০৭ ডলারে পৌঁছেছে। তবে বৈশ্বিক বাজারে এমন দাম বাড়লেও, ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত