Ajker Patrika

মোদি ও আদানিকে নিয়ে তথ্যচিত্র সরানোর নির্দেশ ভারতীয় আদালতের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মোদি ও আদানিকে নিয়ে তথ্যচিত্র সরানোর নির্দেশ ভারতীয় আদালতের
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী গোতম আদানি। ছবি: এএফপি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ধনকুবের গৌতম আদানির মধ্যে স্বজনতোষিত পুঁজিবাদের অভিযোগ তুলে নির্মিত ‘দ্য ফ্রেন্ডশিপ ফাইলস’ শীর্ষক তথ্যচিত্রটি অনলাইন থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) কলকাতা হাইকোর্ট ইউটিউব, এক্স ও মেটার ইনস্টাগ্রাম থেকে ৩৬ মিনিটের তথ্যচিত্রটির বিভিন্ন পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নির্মাতা সাবির ভাটিয়াকে ভিডিওটির প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী এই আদেশ ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হটমেইলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সাবির ভাটিয়ার নির্মিত তথ্যচিত্রটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে আদানিগোষ্ঠীর প্রধান প্রতিষ্ঠান আদানি এন্টারপ্রাইজেস। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, তথ্যচিত্রটিতে মিথ্যা তথ্য রয়েছে এবং এটি বাস্তব ঘটনাকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি লাখ লাখবার দেখা হয়েছে। এটি প্রকাশের পর কয়েকজন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়েছেন বলেও আদালতকে জানিয়েছে আদানি এন্টারপ্রাইজেস।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, তথ্যচিত্রটি কোনো সংবাদ প্রতিবেদন বা বিচারিক কার্যক্রমের বিবরণ নয়; বরং এটি একটি নাটকীয় বর্ণনা।

মোদি ও আদানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে ভারতের বিরোধী দলগুলো। তাদের দাবি, বছরের পর বছর আদানিগোষ্ঠী সরকারের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পেয়েছে। তবে ভারত সরকার ও আদানিগোষ্ঠী বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তথ্যচিত্রটিতে আর্কাইভে সংরক্ষিত ভিডিও ব্যবহার করে মোদি ও আদানির সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাট থেকে শুরু হয়েছে এর বর্ণনা। রাজ্যটি দুজনেরই জন্মস্থান। এতে ২০১৯ সালে আদানিগোষ্ঠীর ছয়টি বিমানবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, সে সময় সরকারি বিধিতে পরিবর্তন এনে আদানিগোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার বলেছে, সব বিধিবিধান মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কোনো পক্ষপাত করা হয়নি।

ভাটিয়া এক্সে লিখেছেন, মামলায় তাঁর কাছে ৫০ কোটি রুপি (প্রায় ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ‘সত্য আমার পক্ষে।’ তিনি আরও দাবি করেন, তথ্যচিত্রটি আদানি এন্টারপ্রাইজেস এবং ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

এর আগে গত ১৯ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের পুলিশ ভাটিয়াকে তথ্যচিত্রটি সরানোর নোটিশ দেয়। আদালতে মামলার পরবর্তী শুনানি জানুয়ারিতে হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত