Ajker Patrika

দিল্লি এড়িয়ে কেন ভারতের ছোট্ট শহর জামনগরে গেলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
দিল্লি এড়িয়ে কেন ভারতের ছোট্ট শহর জামনগরে গেলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: এএফপি

ভারতে অন্য দেশের প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী যে ই সফরে আসুক না কেন, তাদের গন্তব্য রাজধানী দিল্লিতেই হয়। তবে এবার যেন দেখা গেল ব্যতিক্রম। দিল্লি এড়িয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বন্দরনগর জামনগরে গেলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই সফর নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

কেন জামনগরে গেলেন রুবিও? এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কেন তিনি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফর এড়িয়ে গেলেন?

এই দুই প্রশ্নের উত্তর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হতে পারে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের চাহিদার যোগসূত্র রয়েছে।

মঙ্গলবার ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইয়ে পৌঁছান রুবিও। সেখানে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর গুজরাট রাজ্যের জামনগরে গিয়ে তিনি সফর শেষ করেন। শহরটিতে এশিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন বিশাল তেল শোধনাগার রয়েছে।

চলতি বছর এটি ছিল রুবিওর দ্বিতীয় ভারত সফর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার তাঁর সফরের সময় এবং সফরের জন্য বেছে নেওয়া স্থানগুলো বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চাপের মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে তেল পরিশোধনের নতুন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা কম। এমন পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের ভারতের সক্ষমতা জ্বালানির বাজারে চাপ কমাতে ওয়াশিংটনের জন্য একটি সম্ভাব্য পথ খুলে দিয়েছে।

আর এ হিসাবের কেন্দ্রে রয়েছে রিলায়েন্সের জামনগর তেল শোধনাগার।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে কিছুটা জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ই রুবিওর এই সফর। রাশিয়ার জ্বালানি কেনার কারণে নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে, যদিও বর্তমানে তা স্থগিত আছে। এ ছাড়া প্রায় ২০ মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।

সফর ঘোষণার সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক হবে এই সফরের মূল আলোচ্য বিষয়।

সরকারিভাবে ঘোষিত সফরসূচিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির নামও ছিল না। বিষয়টি বিশেষ করে ভারতের বিরোধী রাজনীতিকদের মধ্যে কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তের পেছনে কৌশলগত বিবেচনা ছিল।

আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল কুগেলম্যান বিবিসিকে বলেন, ‘দিল্লিতেই আস্থার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ও নীতিতে সেখানকার কর্মকর্তারা অসন্তুষ্ট।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত মীরা শঙ্কর রাজধানী এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি মূলত জ্বালানিকেন্দ্রিক সফর ছিল। তা ছাড়া রুবিও মুম্বাইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।’

সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের তাজ হোটেলে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে যাওয়ায় উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা সমঝোতা চূড়ান্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

তবে কূটনৈতিক বৈঠক শেষ হওয়ার পর রুবিও যান জামনগরে। সেখানে রয়েছে আম্বানি ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান সম্পদ রিলায়েন্সের বিশাল তেল শোধনাগার। এই সফরই শেষ পর্যন্ত তাঁর ভারত সফরের মূল তাৎপর্য নির্ধারণ করে দেয়।

মীরা শঙ্করের মতে, শোধনাগার পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাজারে আরও বেশি পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাকে যুক্তরাষ্ট্র কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।

রিলায়েন্সের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, জামনগরের শোধনাগার কমপ্লেক্সে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা যায়। বিশ্বের মোট তেল পরিশোধন সক্ষমতার প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ এই কমপ্লেক্সের দখলে। এ ছাড়া ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের বড় রপ্তানিকারকও রিলায়েন্স। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বুধবার কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে শোধনাগারটি পরিদর্শন করেন রুবিও। এ সময় সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকারও সীমিত ছিল। তিনি শোধনাগার ঘুরে দেখেন এবং মুকেশ আম্বানিসহ আম্বানি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

পরে এক বিবৃতিতে রিলায়েন্স জানায়, ‘এই সফরে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি এবং প্রচলিত ও নতুন জ্বালানির ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের সুযোগ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।’ তবে অপরিশোধিত তেল কেনা বা পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে কি না, বিবৃতিতে তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

এর ঠিক এক দিন আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভারতকে ‘জ্বালানি পরিশোধনের পরাশক্তি’ বলে অভিহিত করেন রুবিও। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায়, রিলায়েন্স আরও বেশি ভেনেজুয়েলার তেল পরিশোধন করুক।

সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘ভারতের ভারী অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। অতীতেও তারা তা করেছে। আমার ধারণা, ভেনেজুয়েলার তেল যখন আরও বেশি পরিমাণে বাজারে আসবে, তখন ভারত এ কাজ করতে পারবে।’

রুবিও আরও বলেন, স্বল্প মেয়াদে ভেনেজুয়েলার তেল ‘নিশ্চিতভাবেই কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে’। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে সরবরাহের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কমাতেও এই তেল সহায়তা করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার আগে রিলায়েন্স ছিল ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা। চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর ওয়াশিংটন দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। এরপর রিলায়েন্স আবারও ভেনেজুয়েলার তেলের বড় আমদানিকারক হিসেবে ফিরে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রুবিওর এই সফর রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কের কিছু টানাপোড়েন কমাতেও সহায়তা করতে পারে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর ভারত রাশিয়ার তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতায় পরিণত হয়। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাশিয়ার মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৩৭ শতাংশের গন্তব্য ছিল ভারত। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল পরিশোধনকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রিলায়েন্সও ছিল।

২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে ভারতের অনেক পণ্যের ওপর মোট শুল্কের হার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অতিরিক্ত এই শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তা সত্ত্বেও ভারতের রাশিয়ার তেল আমদানি ওয়াশিংটন ও দিল্লির সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে।

ভারত বরাবরই বলে আসছে, দেশটির ১৪০ কোটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার।

এদিকে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সাময়িকভাবে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জামনগরে রুবিওর সফর যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। লক্ষ্যগুলো হলো—রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমানো, ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের তেল আমদানি বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া এবং একটি বাণিজ্য চুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়া, যেখানে জ্বালানি সহযোগিতা সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

এই উদ্যোগের পেছনে ব্যবসায়িক স্বার্থের আরেকটি সম্ভাব্য দিকও রয়েছে।

মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, আম্বানি পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করার পেছনে রুবিওর দুটি উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত, ভেনেজুয়েলার তেল আরও বেশি পরিশোধনের ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয়ত, প্রস্তাবিত টেক্সাস শোধনাগার প্রকল্পে রিলায়েন্সের আগ্রহ বজায় রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া।

গত মার্চে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে টেক্সাসের ব্রাউনসভিল বন্দরে একটি শোধনাগার নির্মাণের প্রস্তাব ঘোষণা করেন। তাঁর দাবি ছিল, গত ৫০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এটিই হবে প্রথম বড় আকারের নতুন তেল শোধনাগার।

এ বিষয়ে রিলায়েন্স এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য কিংবা কবে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা, তা-ও জানা যায়নি।

কুগেলম্যান বলেন, ‘টেক্সাসের শোধনাগারটি ভেনেজুয়েলার তেলসংক্রান্ত ব্যবস্থার মতো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ না-ও হতে পারে। তবে আমার মনে হয়, এটিও পুরো ঘটনার একটি অংশ।’

তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রিলায়েন্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে অগ্রগতি হলেই যে শিগগির একটি বাণিজ্য চুক্তি হবে, এমন নয়।

কুগেলম্যান বলেন, ‘এই পর্যায়ে কেউই সত্যিকার অর্থে বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণার প্রত্যাশা করছিলেন বলে আমার মনে হয় না। তবে সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে যতটা সম্ভব সঠিক পথে ফেরাতে সহায়তা করেছে, কারণ এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে টানাপোড়েন রয়ে গেছে।’

ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা কেয়ারএজের প্রধান অর্থনীতিবিদ রজনী সিনহা বিবিসিকে বলেন, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়লে উভয় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কমতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা বাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং ভারতে ‘বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক মনোভাবকে চাঙা’ করতেও তা সহায়তা করতে পারে।

মীরা শঙ্করের মতে, ভারত সম্ভবত ‘যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কসংক্রান্ত অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে বোঝা যায় দিল্লি কোনো অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি পাবে কি না।’

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়লেও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অব্যাহতভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে বলেও জানান মীরা শঙ্কর।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫০৮১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি ২৫৬৬ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৩২৩৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের পণ্য বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত আগের বছরের ২০০৭ কোটি ডলার থেকে কমে ১৮৪৮ কোটি ডলারে নেমেছে।

মীরা শঙ্কর বলেন, ‘অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখনো শক্তিশালী। তবে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

তাই আপাতত রুবিওর সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আবারও সঠিক পথে ফেরাতে কিছুটা সহায়তা করে থাকতে পারে। তবে এই অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত কোনো বাণিজ্য চুক্তিতে রূপ নেয় কি না, কিংবা জ্বালানি খাতে দুই দেশের সম্পর্কে স্থায়ী পরিবর্তন আনে কি না, তা এখনো দেখার বিষয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত