Ajker Patrika

কর্ণাটকের স্কুলে হিজাব-পাগড়ির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কর্ণাটকের স্কুলে হিজাব-পাগড়ির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
ছবি: এনডিটিভি

ভারতের কর্ণাটক রাজ্য সরকার ২০২২ সালের বিতর্কিত স্কুল ইউনিফর্ম সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নতুন নীতিমালা জারি করেছে। নতুন এই নির্দেশনায় সরকারি, অনুদানপ্রাপ্ত ও বেসরকারি স্কুল এবং কলেজে নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে সীমিত পরিসরে ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হিজাব, পাগড়ি, জেনেউ (পবিত্র সুতা), রুদ্রাক্ষ মালা কিংবা শিবধারা পরার সুযোগ মিলবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০২২ সালে কর্ণাটকে হিজাব বিতর্ক তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল। সে সময় জারি করা নির্দেশনায় ধর্মীয় প্রতীক ছাড়া কঠোরভাবে ইউনিফর্ম মেনে চলার কথা বলা হয়েছিল। নতুন আদেশে সেই নির্দেশনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে—শিক্ষার্থীরা পাগড়ি, পেটা, জেনেউ, শিবধারা, রুদ্রাক্ষ কিংবা হিজাবের মতো প্রতীক পরতে পারবে। তবে তা যেন শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, পরিচয় শনাক্তকরণ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থীকে এসব প্রতীক পরার কারণে শ্রেণিকক্ষ, পরীক্ষা বা শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধা দেওয়া যাবে না। আবার কাউকে জোর করে এসব প্রতীক পরতে বা খুলতেও বাধ্য করা যাবে না।

তবে জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ড্রেস কোড কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন ধর্ম, সংস্কৃতি বা পোশাকের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে হয়রানি বা বৈষম্যের শিকার না করে।

কর্ণাটকের শিক্ষামন্ত্রী মধু বাঙ্গারাপ্পা বলেন, গত বছর এবং চলতি বছরের এপ্রিলেও কিছু শিক্ষার্থীকে ধর্মীয় প্রতীক খুলতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছিল। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা কষ্ট পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ও ভবিষ্যতের পথে এসব বিষয় বাধা হওয়া উচিত নয়। এগুলো মানুষের ধর্মীয় চর্চার অংশ।’

তবে রাজ্যটির বিরোধীদল বিজেপি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। বিজেপি বিধায়ক ভরত শেঠি বলেছেন, সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে নতুন বিতর্ক তৈরি করছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা গিরিশ ভারতদ্বাজও বলেন, যদি হিজাব অনুমোদন করা হয়, তবে হিন্দু শিক্ষার্থীদের গেরুয়া শাল পরার সুযোগও দিতে হবে।

কর্ণাটক সরকার জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল পাঠদানের জায়গা নয়; বরং সমতা, ভ্রাতৃত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা ও পারস্পরিক সম্মানের মতো সাংবিধানিক মূল্যবোধ শেখানোরও ক্ষেত্র।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত