Ajker Patrika

জার্মানির ৩৪ শহরে জেন-জি বিক্ষোভ, ফ্রাঙ্কফুর্টে লুটপাট-সহিংসতা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০: ০০
জার্মানির ৩৪ শহরে জেন-জি বিক্ষোভ, ফ্রাঙ্কফুর্টে লুটপাট-সহিংসতা
‘জেন-জি রেগেল্ট’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভের পর ট্রাম লাইন থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। ছবি: এএফপি

এবার জেন-জি বিক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়েছে জার্মানিতেও। দেশটিতে উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বাতিলের দাবিতে দেশটির ৩৪টি শহরে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো তরুণ। গতকাল শনিবার বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচিতে কয়েক হাজার বেশি মানুষ অংশ নেন।

তবে ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। সেখানে হুডি ও মুখোশ পরা দাঙ্গাকারীরা অন্তত দুটি দোকানে লুটপাট চালায়। আরও কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক প্রত্যক্ষদর্শী এসব তথ্য জানিয়েছেন।

জার্মানির ‘জেন-জি রেগেল্ট’ (Gen Z regelt) নামের একটি গোষ্ঠী এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। জার্মান ভাষায় এর অর্থ ‘জেন-জিই দায়িত্ব নিচ্ছে’। আয়োজকদের দাবি, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ে তরুণ প্রজন্মের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।

ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ‘সহিংস বিশৃঙ্খলা অব্যাহত রয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমাও নিক্ষেপ করা হচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলার অথবা ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আয়োজকদের প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। আয়োজকেরা প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৮২ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের আশা করেছিলেন। তবে ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে পুলিশের হিসাবে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেন। অন্যদিকে, আয়োজকদের ওয়েবসাইটে প্রায় ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারীর তথ্য উল্লেখ করা হয়।

জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্যালোইন উৎসবের সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠিত শনিবারের বিক্ষোভগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা। হামবুর্গে কয়েকটি ব্যারিকেডে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার বার্লিনের একটি সমাবেশে ‘জেন-জি রেগেল্ট’-এর মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, ‘আমরা আজ এখানে যুদ্ধ ও জবরদস্তির পক্ষে নয়, বরং শান্তি ও স্বাধীনতার দাবিতে লড়াই করতে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য আরও ভালো সহায়তা নিশ্চিত করা। আমরা বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধী এবং দায়িত্বের বোঝা আরও ন্যায্যভাবে বণ্টনের পক্ষে।’

এদিকে, আন্দোলনটির নেতৃত্ব কারা দিচ্ছেন এবং এটি প্রকৃত অর্থেই তরুণদের নেতৃত্বাধীন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সংগঠনের বিস্তৃত অংশগ্রহণ রয়েছে। জার্মানির জাতীয় পর্যায়ের স্কুলশিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএসকে এই উদ্যোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। সংগঠনটি আগামী ২০ নভেম্বর আলাদা একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে।

বার্লিনের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শন বেকার জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা তুলে ধরতে তিনি শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেবেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘ভেতরে ঢুকে কক্ষগুলোতে প্রবেশ করলে মনে হয়, এটি যেন পরিত্যক্ত কোনো ভবন। অথচ আমাদের নিয়মিত এখানে এসে পড়াশোনা করতে হয়।’ তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগজনক এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত