
আফগানিস্তানে যুদ্ধরত ব্রিটিশ সেনারা সম্মুখযুদ্ধ এড়িয়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করত—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। স্টারমার অভিযোগ করেছেন, এ মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প নিহত ব্রিটিশ সেনাদের আত্মত্যাগকে ‘খাটো’ করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের যখন প্রয়োজন হবে তখন ন্যাটো হয়তো তাদের সমর্থন দেবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের কখনোই তাদের প্রয়োজন হয়নি। তারা বলবে তারা আফগানিস্তানে কিছু সেনা পাঠিয়েছিল। হ্যাঁ... তারা পাঠিয়েছিল; কিন্তু তারা সম্মুখযুদ্ধ থেকে কিছুটা পেছনে, দূরে অবস্থান করত।’
এর আগে বুধবার দাভোসেও তিনি ৩২ দেশের এই সামরিক জোট সম্পর্কে একই ধরনের দাবি করেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি জোটের সবাইকে চেনেন; কিন্তু বিপদের সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে কি না, তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ আছে।
ট্যাম্পের এমন মন্তব্যের জবাবে ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আফগানিস্তানে ব্রিটিশ বাহিনীসহ ন্যাটোর সেনাদের ভূমিকা খাটো করে ভুল করেছেন। আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের আত্মত্যাগের জন্য গর্বিত।’
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, ব্রিটেন ও ন্যাটোর মিত্ররা ‘যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল’ এবং নিহত সেনাদের বীর হিসেবে মনে রাখা উচিত।
উল্লেখ্য, ৯/১১ হামলার পর ন্যাটোর ইতিহাসে কেবল একবারই সম্মিলিত নিরাপত্তার ৫ নম্বর ধারা কার্যকর হয়েছিল এবং সেটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে।
ব্রিটেনের সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নস নিজে আফগানিস্তানে চারটি মিশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং মিলিটারি পদক পেয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ট্রাম্পকে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে রক্ত, ঘাম ও চোখের জল ফেলেছি। অনেকেই বাড়িতে ফিরে আসতে পারেনি। আপনি সেনাদের নিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন না।’
কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ব্রিটিশ সেনাদের অপমানের দায়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করার জন্য স্টারমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিট এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ বা রাষ্ট্রদূতকে তলব করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
হাউস অব কমন্স ডিফেন্স কমিটির চেয়ারম্যান তান ধেসি এবং ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান এমিলি থর্নবেরি ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে নিহতদের পরিবারের প্রতি ‘অপমান’ বলে বর্ণনা করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০ বছরের (২০০১-২১) আফগানিস্তান যুদ্ধে মোট ৩ হাজার ৪৮৬ জন ন্যাটো সেনা প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬১ জন মার্কিন, ৪৫৭ জন ব্রিটিশ, কানাডার ১৬৫ ও ডেনমার্কের ৪৪ জন।
এদিকে ট্রাম্পের এ মন্তব্যে অনেকেই তাঁর নিজের সামরিক ইতিহাস টেনে এনেছেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় গোড়ালিতে ‘বোন স্পার’ বা হাড় বাড়ার অজুহাতে ট্রাম্প পাঁচবার বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এড়িয়ে গিয়েছিলেন বলে গুজব রয়েছে।

এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। ইউফ্রেটিস নদীর তীরে তাদের গর্বের প্রতীক কুর্দি নারী যোদ্ধাদের মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে।
৩০ মিনিট আগে
আফগানিস্তানে মেয়েদের জন্য তায়কোয়ান্দো জিম পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ২২ বছর বয়সী এক নারী ক্রীড়াবিদকে ১৩ দিন কারাভোগের পর মুক্তি দিয়েছে তালেবান। তালেবানের সুপ্রিম কোর্টের এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বখ্যাত পেশাদার রক ক্লাইম্বার অ্যালেক্স হোনোল্ড এবার নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিতে যাচ্ছেন। এবার তিনি কোনো সুরক্ষা দড়ি বা সরঞ্জাম ছাড়াই বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম টাওয়ারে চড়তে যাচ্ছেন। ভয়ংকর এই চ্যালেঞ্জটি শুক্রবারই (২৩ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘তাইপেই-১০১’ ভবনে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় কাতারে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করেছে, তারা কাতার সরকারের আমন্ত্রণে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন ফাইটার জেটগুলো কাতারের আল‑উদেইদ এয়ারবেসে পাঠিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে