Ajker Patrika

চিকিৎসকদের ধর্মঘটে তিন বছরে ব্রিটিশ হাসপাতালগুলোর ক্ষতি ৩০০ কোটি পাউন্ড

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
চিকিৎসকদের ধর্মঘটে তিন বছরে ব্রিটিশ হাসপাতালগুলোর ক্ষতি ৩০০ কোটি পাউন্ড
ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) উদ্যোগে ‘রেসিডেন্ট ডক্টর’দের এটি ৬০ তম ধর্মঘট। ছবি: দ্য টাইমস

চিকিৎসকদের ধর্মঘট পালনের কারণে গত তিন বছরে ব্রিটেনের হাসপাতালগুলোর ৩০০ কোটি পাউন্ডের বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) ডাকে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাতটা থেকে ছয় দিনের কর্মবিরতি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গত তিন বছরে ‘রেসিডেন্ট ডক্টর’ (আগে যারা জুনিয়র ডক্টর নামে পরিচিত ছিলেন) হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসকদের এটি ৬০ তম ধর্মঘট।

দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায়, ধর্মঘটের কারণে প্রতিদিন এনএইচএসের প্রায় ৫ কোটি পাউন্ড ক্ষতি হচ্ছে। কারণ, ধর্মঘটের ঘোষণা দিলে পূর্বনির্ধারিত অস্ত্রোপচারগুলো পিছিয়ে দিতে হচ্ছে এবং জুনিয়র সহকর্মীদের অনুপস্থিতিতে সেবা সচল রাখতে হাসপাতাল কনসালট্যান্টরা ঘণ্টায় ৩১৩ পাউন্ড পর্যন্ত সম্মানি দাবি করছেন।

ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, বিএমএ স্বাস্থ্য খাতের জরুরি তহবিল শুষে নিচ্ছে।

দ্য টাইমসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের পুঞ্জীভূত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ চলতি সপ্তাহেই ৩০০ কোটি পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে।

স্বাস্থ্য খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, গত এক দশকের মধ্যে এই প্রথম যখন ওয়েটিং লিস্টের পারফরম্যান্স বা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই এই ধর্মঘট হাসপাতালগুলোর ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।

এনএইচএসের প্রধান নির্বাহী স্যার জিম ম্যাকে দ্য টাইমসকে বলেন, ‘এ বছর অপেক্ষার সময় কমাতে এনএইচএস বাস্তব অগ্রগতি করেছে। এই ক্ষতিকর ও বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ধর্মঘট সামাল দিতে আমাদের যে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, তা রোগীর সেবার মান সংস্কারে বিনিয়োগ করা যেত। ”

ম্যাকে আরও বলেন, ‘এটি কেবল আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, বিএমএ যখন পিকেট লাইনে দাঁড়িয়ে ধর্মঘট করে, তখন রোগীদের নিরাপদ রাখতে অন্য কর্মীদের যে সময়, শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, তার মাশুলও অনেক। এনএইচএসের এই অগ্রগতিকে আমরা কোনোভাবেই নস্যাৎ হতে দেব না। জরুরি সেবা চালু রাখতে যারা এ সপ্তাহে বাড়তি চাপ নিচ্ছেন, সেই সব চিকিৎসক ও নার্সদের আমি ধন্যবাদ জানাই।’

গত দুই বছরে হাসপাতালের ওয়েটিং লিস্ট বা চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা রোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৭৮ লাখ থেকে কমে ৭২ লাখে নেমেছে এবং রোগীর সন্তুষ্টির হারও বেড়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিবার ধর্মঘট এই অগ্রগতিকে থামিয়ে দেয় এবং বার্ষিক বাজেট ঠিক রাখা কঠিন করে তোলে। ধর্মঘটের সময় হাসপাতালগুলো অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করে। তবে বিএমএ কনসালট্যান্টদের পরামর্শ দিয়েছে, তাঁরা যেন রাতের শিফটের জন্য ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড এবং দিনের শিফটের জন্য ২ হাজার ২২৫ পাউন্ড দাবি করেন।

চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কারণে ৩০০ কোটি পাউন্ড ক্ষতি দিয়ে ৭৫ হাজার নার্সের এক বছরের বেতন দেওয়া সম্ভব হতো অথবা এনএইচএসের জন্য ১ হাজারটি নতুন এমআরআই স্ক্যানার কেনা কিংবা তিনটি নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করা যেত।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্ট্রিটিং বলেন, ‘যখন সবাই আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ব্যয়বহুল ধর্মঘট এনএইচএস ও দেশের জন্য কাম্য নয়। সরকার স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে, কিন্তু বিএমএর রেসিডেন্ট ডক্টরস কমিটির হঠকারী সিদ্ধান্ত সেই জরুরি তহবিল নষ্ট করছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ছয় দিনের এই ধর্মঘটে ২৫ কোটি পাউন্ডের বেশি ক্ষতি হতে পারে। ফলে বিএমএ তাদের সদস্যদের জন্য অতিরিক্ত ১ হাজারটি প্রশিক্ষণের পদ হারানোর সুযোগ তৈরি করছে, কারণ সেই অর্থ এখন ধর্মঘট সামাল দিতে ব্যয় করতে হবে। তিনি বিএমএকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে রোগীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ করেন।

গত তিন বছর আগে প্রথম ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর থেকে রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের বেতন এ পর্যন্ত ২৮.৯ শতাংশ বেড়েছে। অভিজ্ঞতা ভেদে তাঁদের মূল বেতন ৩৯ হাজার থেকে ৭৪ হাজার পাউন্ডের মধ্যে, যার সঙ্গে ওভারটাইম ও নাইট শিফটের বাড়তি ভাতা যুক্ত হয়। তাঁরা এখন আরও ২৬ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি চাচ্ছেন। গত মাসে স্ট্রিটিং মুদ্রাস্ফীতির হারের চেয়ে বেশি বেতনের একটি প্রস্তাব দিলেও বিএমএ তা সাধারণ সদস্যদের মতামতের জন্য পেশ না করেই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।

বছরের বাকি সময়জুড়েও চিকিৎসকেরা ধর্মঘট চালিয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন এনএইচএস নেতারা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষে বিএমএর সাথে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো এখন কঠিন মনে হচ্ছে।

সোমবার ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন বলেন, ধর্মঘট শুরু হওয়াটা অত্যন্ত হতাশাজনক। রোগীদের জন্য এটি মোটেও ন্যায্য নয়। তিনি সংশ্লিষ্টদের টেবিলে ফিরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান।

এনএইচএস অ্যালায়েন্সের কর্মকর্তা ররি ডেইটন বলেন, ‘তীব্র আর্থিক চাপে থাকা এনএইচএসের জন্য এই ধর্মঘট অনেক বড় মাশুল। স্বাস্থ্যসেবা খাত প্রতিটি পাউন্ডের সঠিক ব্যবহার ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর যে চেষ্টা করছে, ধর্মঘট তার সবকিছুকে বাধাগ্রস্ত করছে।’

অন্যদিকে, বিএমএ কাউন্সিল চেয়ারম্যান ডা. টম ডলফিন বলেন, ‘প্রতিটি ধর্মঘটে ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতির দাবি প্রমাণ করে যে, সরকার রোগীদের ভোগান্তি ও চিকিৎসকদের হতাশার জন্য অর্থ ব্যয় করেছে। এই অর্থ ধর্মঘট সামলানোর পেছনে ব্যয় না করে চিকিৎসকদের মর্যাদা দেওয়া এবং নতুন প্রশিক্ষণের পদ তৈরিতে ব্যবহার করা উচিত ছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনড় অবস্থানের কারণেই এই সংকটের সমাধান হচ্ছে না; এটি কোনো আর্থিক মিতব্যয়িতা নয়, বরং একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।’

তবে আলোচনার জন্য তাঁদের দরজা এখনো খোলা আছে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার, নেওয়া হয়েছে ডিবি কার্যালয়ে

খাবারের জন্য রক্ত বিক্রি করা এই বিলিয়নিয়ারের জীবনের ৬ শিক্ষা

অচেতন মোজতবার চিকিৎসা চলছে ইরানেই, জড়িত নেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে—টাইমসের প্রতিবেদন

ঈশ্বর সংঘাত পছন্দ না করলেও ইরান যুদ্ধে আমাদের সঙ্গে আছেন: ট্রাম্প

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ: ট্রেনের গতি বাড়াতে ডুয়েলগেজ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত