Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া উচ্চপর্যায়ের সামরিক যোগাযোগ আবার শুরু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ০৮
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া উচ্চপর্যায়ের সামরিক যোগাযোগ আবার শুরু
ইউরোপে মার্কিন ও ন্যাটোর শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ। ছবি: ইপিএ

চার বছরের বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পুনরায় উচ্চপর্যায়ের সামরিক যোগাযোগ শুরু হতে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আবুধাবিতে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন ও রুশ সামরিক কর্মকর্তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। এই দিনে দুই দেশের মধ্যকার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে যে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, এই পদক্ষেপ তাকে কিছুটা প্রশমিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউএস ইউরোপীয় কমান্ড (ইউকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই নিয়মিত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে দুই পারমাণবিক পরাশক্তির মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধ-সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে। জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ (ইউরোপে মার্কিন ও ন্যাটোর শীর্ষ কমান্ডার) রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই আলোচনায় নেতৃত্ব দেন।

ইউকমের বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংলাপ বজায় রাখা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং যুদ্ধের উত্তেজনা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ ৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয় দেশই সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সর্বোচ্চ ৭০০টি বোমারু বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, প্রায় অর্ধশতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো দুই দেশের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো আইনি কাঠামো থাকবে না।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘নিউ স্টার্ট একটি বাজে চুক্তি ছিল। এখন আমাদের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের উচিত একটি নতুন, উন্নত এবং আধুনিক চুক্তি নিয়ে কাজ করা যা দীর্ঘস্থায়ী হবে।’ ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে নতুন আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

২০২১ সালের শেষের দিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের ঠিক আগে দুই দেশের সামরিক যোগাযোগ স্থগিত হয়েছিল। গত তিন বছরে কৃষ্ণসাগর ও ন্যাটোর আকাশসীমায় দুই দেশের ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের মুখোমুখি হওয়ার বেশ কিছু ঘটনা বিশ্বকে বড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিয়ে আসছিলেন। আবুধাবির এই বৈঠক সেই প্রক্রিয়ারই একটি বড় অংশ।

এদিকে সামরিক যোগাযোগ শুরু হলেও ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে এখনো কোনো মীমাংসায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া। তবে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় সামরিক যোগাযোগ চালু হওয়াকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি কমানোর পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত