যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রধান থার্মো-নিউক্লিয়ার বা তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র আধুনিকায়নের কাজ শেষ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরমাণু নিরাপত্তা প্রশাসনের (এনএনএসএ) প্রশাসক জিল হ্রুবি জানিয়েছেন, বি৬১-১২ মডেলের নতুন সংস্করণের পারমাণবিক বোমা ইউরোপের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে। ন্যাটোর সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র শেয়ার তথা ভাগাভাগি কর্মসূচির আওতায় এসব বোমা মোতায়েন করা হয়েছে।
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বি-৬১ পরিবারের বোমাগুলো প্রায় ৫০ বছর ধরে কার্যকর। ২০০৮ সালে শুরু হওয়া বি৬১-১২ ‘লাইফ এক্সটেনশন’ বা আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি প্রোগ্রামের লক্ষ্য ছিল বোমাটির পরমাণু ও অ-পরমাণু উপাদান আধুনিকীকরণ এবং এর স্থায়িত্বকাল আরও অন্তত ২০ বছর বাড়ানো। এ মাসের শুরুর দিকে, এনএনএসএ এই কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেয়।
হ্রুবি গত বৃহস্পতিবার হাডসন ইনস্টিটিউটে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ‘নতুন বি৬১-১২ গ্র্যাভিটি বোমাগুলো সম্পূর্ণরূপে মোতায়েন করা হয়েছে এবং আমরা ন্যাটোর পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে তাদের সচেতনতা বাড়াতে আমাদের কার্যক্রমে নিয়মিত সম্পৃক্ত করছি।’
যদিও তিনি ‘পূর্ণ মোতায়েন’ শব্দের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। তবে এর আগে, বি৬১ বোমার বিভিন্ন সংস্করণ বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও তুরস্কে মোতায়েন করা ছিল। মস্কোর ধারণা, ইউরোপজুড়ে অন্তত ১৫০টি বোমা মোতায়েন রয়েছে। এসব বোমা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মজুত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বি৬১-১২ বোমা যুক্তরাজ্যেও মোতায়েনের পরিকল্পনাও করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের একটি নতুন স্থাপনার জন্য ইংল্যান্ডের সাফোকের ল্যাকেনহিথ রাজকীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে এ বোমা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
হ্রুবি আরও বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমাদের কৌশলগত অংশীদারত্ব অত্যন্ত মজবুত। তাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রতিও তাদের অঙ্গীকার দৃঢ়। আমরা সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতা নিয়ে যৌথভাবে আরও উন্নত চিন্তাভাবনা করছি।’
এর আগে, গত বছরের নভেম্বরে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন তাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ কৌশলে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেয়। এর মূল দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে—পরমাণু অস্ত্র-সজ্জিত ও পারমাণবিক শক্তিচালিত ওহাইও ক্লাস সাবমেরিনের প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং বি৬১-১৩ গ্র্যাভিটি বোমার উন্নয়ন। এ বোমা যুক্তরাষ্ট্রকে বড় এবং শক্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের অতিরিক্ত বিকল্প প্রদান করবে। এনএনএসএ নিশ্চিত করেছে, তারা ইতিমধ্যেই নতুন মডেলের বোমা উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্প্রসারণের সমালোচনা করে আসছে। তাদের দাবি, পরমাণু অস্ত্রের বৈশ্বিক মোতায়েন পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে। সেপ্টেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার পরমাণু নীতিতে পরিবর্তন আনেন, যেখানে বলা হয়েছে, ‘কোনো পরমাণু অস্ত্রবিহীন রাষ্ট্র যদি কোনো পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের সহায়তায় রাশিয়া বা তার মিত্রদের ওপর আক্রমণ চালায়, তবে এটি তাদের যৌথ হামলা হিসেবে গণ্য হবে।’
নভেম্বরে এ পরিবর্তন অনুমোদন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে দীর্ঘ পাল্লার অস্ত্র সরবরাহ করায় রাশিয়া বারবার হুঁশিয়ারি দিলেও, এ অস্ত্র ব্যবহারে সংঘাত আরও বেড়েছে এবং ন্যাটোর সরাসরি অংশগ্রহণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনের একটি সামরিক কারখানায় তাদের নতুন ওরেশনিক মাঝারি পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ‘যুদ্ধ পরীক্ষা’ চালায়। এটি ইউক্রেনের মার্কিন নির্মিত এটাকমস ও হিমার্স সিস্টেম এবং ব্রিটিশ-ফরাসি স্টর্ম শ্যাডো/এসসিএএলপি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা জবাব হিসেবে চালানো হয়।
গত মাসে, রাশিয়া ও বেলারুশ একটি নিরাপত্তা চুক্তি সম্পন্ন করে, যার অধীনে ২০২৫ সালের মধ্যে বেলারুশে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। মস্কোর দাবি, বর্তমান পশ্চিমা প্রতিরক্ষাব্যবস্থাগুলো এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারবে না, যা ইউরোপজুড়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

বিশ্বজুড়ে ইহুদি-বিদ্বেষ বা ‘অ্যান্টিসেমিটিজম’ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে মনে করছে ইসরায়েলের ‘ডায়াসপোরা অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড কমব্যাটিং অ্যান্টিসেমিটিজম’ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়টি ২০২৫ সালের ১০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রচারণ
১১ মিনিট আগে
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে সমুদ্রপথে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এই এক বছরে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। এই সমুদ্রপথের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর।
২৬ মিনিট আগে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দেশটির এভিয়েশন অথরিটি এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইরানি এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ইরানের পূর্ব দিকের আকাশসীমা এবং রাজধানী তেহরানসহ মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর পুনরায় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য উন্মুক্ত করে
৪১ মিনিট আগে
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইরান ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তার ‘পূর্বাবস্থায়’ ফিরে গেছে। অর্থাৎ এই কৌশলগত জলপথটিতে এখন থেকে পুনরায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তদারকি ও ব্যবস্থাপনা কার্যকর থাকবে।
১ ঘণ্টা আগে