
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে তারা একটি সংশোধিত ফ্রেমওয়ার্কে পৌঁছেছে। আগের প্রস্তাবটি মস্কোর জন্য অতিরিক্ত সুবিধাজনক বলে সমালোচিত হওয়ার পর এই নতুন ফ্রেমওয়ার্ক সামনে আনা হয়েছে। গতকাল রোববার জেনেভায় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন জানায়, যুদ্ধ শেষ করার যেকোনো চুক্তিতে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণভাবে বজায় রাখতে হবে। তারা একধরনের ‘হালনাগাদ ও পরিমার্জিত শান্তি কাঠামো’ তুলে ধরেছে। তবে সংশোধিত ফ্রেমওয়ার্কের বিস্তারিত খুব একটা প্রকাশ করা হয়নি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘উভয় পক্ষই একমত যে আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। আলোচনায় অবস্থানগুলোকে সমন্বয় করার এবং পরবর্তী দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন আরও পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত, যেন ইউক্রেনের নিরাপত্তা, স্থিতি ও পুনর্গঠনের জন্য একটি স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা যায়।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আলোচনা চলাকালে দুই পক্ষ ‘অসাধারণ’ অগ্রগতি অর্জন করেছে। যদিও যৌথ বিবৃতিতে মস্কো ও কিয়েভের মাঝের নানা জটিল ইস্যু কীভাবে সমাধান হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কথা বলা হয়নি। রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনার কয়েকটি অংশে, বিশেষ করে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে, কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে—যাতে দুই পক্ষের অবস্থান কিছুটা কাছাকাছি আসে।
তিনি বলেন, ‘যেগুলো এখনো খোলা আছে, সেগুলো অতিক্রমযোগ্যই। শুধু আরও কিছু সময় দরকার। আমার সৎ বিশ্বাস, আমরা শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারব।’ রুবিও খসড়া প্রস্তাবের সংশোধনগুলোর বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি ইউক্রেন কি রাশিয়ার প্রধান দাবি, যেমন ভূখণ্ড ছাড়ের মতো বিষয়গুলোতে কোনো আপস করতে রাজি হয়েছে কি না, তা-ও বলেননি। তবে তিনি যোগ করেন, ‘আজ আমরা যে অগ্রগতি করেছি, তার ভিত্তিতে আমি যথেষ্ট আশাবাদী যে একটি সমাধান সম্ভব।’
রুবিওর এ সতর্ক আশাবাদী মন্তব্য এল এমন সময়, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাঁর ২৮ দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে সময়সীমা বেঁধে দেন। আর তার আগেই তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন, কিয়েভ নাকি তাঁর প্রশাসনের সহায়তার জন্য যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা দেখাচ্ছে না। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ইউক্রেনের নেতৃত্ব আমাদের প্রচেষ্টার প্রতি কোনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি, আর ইউরোপ এখনো রাশিয়ার তেল কিনে যাচ্ছে।’
ট্রাম্পের মন্তব্যের কিছুক্ষণ পরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে পোস্ট করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এবং ‘ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি’ কৃতজ্ঞতা জানান, মস্কোর আগ্রাসন ঠেকাতে ওয়াশিংটনের সহায়তার জন্য। ট্রাম্পের ফাঁস হওয়া শান্তি পরিকল্পনার ব্লুপ্রিন্ট কিয়েভ ও ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানীতে অস্বস্তি তৈরি করেছে। এতে মস্কোর কঠোর দাবিগুলোর সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। যেমন—ইউক্রেনের সেনাবাহিনী সীমিত করা এবং ক্রিমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক ছেড়ে দেওয়া।
গত সপ্তাহে জেলেনস্কি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, এই পরিকল্পনা ইউক্রেনকে এমন অবস্থায় ফেলেছে, যেন তাকে মর্যাদা হারানো আরেক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হারানোর মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে হচ্ছে। রোববার ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়ন বলেন, যেকোনো শান্তি পরিকল্পনাকে অবশ্যই ইউক্রেনের নিজের ভাগ্য বেছে নেওয়ার স্বাধীনতাকে সম্মান করতে হবে, এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের অধিকারও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এটা শুরু হয় পুনর্গঠনের মাধ্যমে, তারপর আমাদের সিঙ্গেল মার্কেটে সংযুক্তকরণ ও আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তির সঙ্গে সমন্বয় এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের ইউনিয়নে যোগদানের মাধ্যমে।’ ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া বৃহস্পতিবারের সময়সীমার মধ্যে চুক্তি সম্ভব কি না, জানতে চাইলে রুবিও বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে চাই। অবশ্যই, আমরা চাই এটি বৃহস্পতিবারই হোক।’
রুবিও বলেন, শান্তি পরিকল্পনাটি একটি ‘জীবন্ত, পরিবর্তনশীল দলিল’ এবং এতে পরিবর্তন চলতেই থাকবে। তিনি আরও জানান, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি মস্কোর সামনে পেশ করতে হবে, তাদের সম্মতির জন্য। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ারও এখানে মতামত দেওয়ার অধিকার আছে।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির ভিত্তি হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করেন, কিয়েভ আলোচনায় না বসলে মস্কো আরও ভেতরে অগ্রসর হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরানে হামলা চালানো বন্ধ করেছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী (আইএএফ)। এমনটাই জানিয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পৃথকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু যুদ্ধবিরতি আলোচনার কোথাও ইসরায়েলের অংশগ্রহণ ছিল না বলে অভিযোগ করে ইসরায়েল..
২ ঘণ্টা আগে
ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি দেশটির বেসামরিক ও সাংস্কৃতিক অবকাঠামোগুলো বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরায়েল। গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসংখ্য গবেষণাকেন্দ্র ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তেহরানের ‘শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’তে
২ ঘণ্টা আগে
ইরানে চূড়ান্ত অপমানজনক পরাজয় বরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমনটাই জানিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানে বিনা উসকানিতে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘চূড়ান্ত অপমানজনক পরাজয়’ ঘটেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার
৩ ঘণ্টা আগে