Ajker Patrika

সংবিধান রক্ষার জন্য আমি শহীদ হতে রাজি—জেন-জিদের বলেছিলেন নেপালের প্রেসিডেন্ট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৯: ৩৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল। আজ বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তিনি জানান, অভ্যুত্থানের পরপরই এক বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের শর্তে সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন জেনারেশন জেড আন্দোলনকারীরা।

কিন্তু জেন-জিদের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন প্রেসিডেন্ট পৌডেল। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সংসদ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই এবং সংবিধান রক্ষার স্বার্থেই তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। এর বদলে তিনি ঘোষণা করেন, ‘সংবিধান রক্ষার জন্য যদি শহীদও হতে হয়, তবে আমি প্রস্তুত।’

নেপালের সংবাদমাধ্যম সেতুপতি জানিয়েছে, ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মহেশ মাস্কে, মানবাধিকারকর্মী মাল্লা কে সুন্দর এবং সিনিয়র আইনজীবী টিকাশঙ্কর ভট্টরায়সহ অনেকেই। গণমাধ্যমকে ভট্টরায় জানান, জেন-জিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন তিনি নিজে সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছেন, তাই এর বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবেন না।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১২ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগেই সংসদ ভাঙার দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পৌডেল তখন তা মানেননি। পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির সুপারিশে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় নাগরিক সমাজের নেতারা প্রেসিডেন্ট পৌডেলকে সতর্ক থাকতে এবং সংবিধান রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিতে আহ্বান জানান।

তাঁরা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সীমিত করা যাবে না, প্রতিহিংসার মনোভাব থেকেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও প্রাণহানি নিয়ে তদন্তে সহায়তার আশ্বাস দেন তাঁরা। তাঁদের মতে, বহুদলীয় ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই সময়মতো নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় নেওয়ার পরামর্শ দেন তাঁরা।

প্রেসিডেন্ট পৌডেল বৈঠকে স্বীকার করেছেন, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সংবিধান কিছুটা ‘কম্প্রোমাইজড’ হয়েছে। সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার গঠনের কথা থাকলেও কার্কির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় ৬১ অনুচ্ছেদের আওতায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন প্রধান লক্ষ্য হলো নির্বাচন এবং তিনি সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবেন না, সরকারকেও একই পথে চলতে হবে।

ভট্টরায় জানান, প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, কঠিন পরিস্থিতিতেও নিরাপত্তা বাহিনী দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেছে। তিনি রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন, এমনকি আহত অবস্থায় নেপালি কংগ্রেস সভাপতি শের বাহাদুর দেউবার সঙ্গেও তিনি ফোনে কথা বলেছেন।

প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ড (পুষ্পকমল দাহাল) ও মাধব নেপাল সরাসরি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিও সংবিধানসম্মত সমাধান খুঁজে পেতে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন। এর আগে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর জেনারেশন জেড আন্দোলনের পরই অলির সরকার ভেঙে পড়েছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত