Ajker Patrika

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৮ ও নিখোঁজ শতাধিক, ক্ষতিগ্রস্ত ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ১৮
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৮ ও নিখোঁজ শতাধিক, ক্ষতিগ্রস্ত ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র
নেপালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকা। ছবি: এএফপি

নেপালের ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে, যাঁদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়ও রয়েছেন। নেপালের তিব্বত সীমান্তের দিক থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে নেপালের নুয়াকোট ও ধাদিং জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গ্রাম পানির স্রোতে ভেসে গেছে বলে নেপালি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিআইজি) অবিনারায়ণ কাফলের বরাত দিয়ে নেপাল নিউজ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নুয়াকোট ও ধাদিং জেলা থেকে অন্তত ৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপাল পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাসুয়া জেলায় অন্তত ২৬ জন নেপাল পুলিশ সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। আর্মড পুলিশ ফোর্স জানিয়েছে, তাদেরও সাতজন সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্য পাঠিয়েছে। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।’

জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত

আজ বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোর ওপর দিয়ে ভয়াবহ বন্যার পানি প্রবাহিত হয়। এতে সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) জানিয়েছে, বন্যায় তাদের অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো হলো রাসুয়াগাধি, চিলিমে, ত্রিশূলী ৩ এ, ত্রিশূলী ৩বি হাব ২২০ কেভি সাবস্টেশন, ত্রিশূলী হাইড্রোপাওয়ার স্টেশন এবং দেবীঘাট হাইড্রোপাওয়ার স্টেশন।

এনইএ বলেছে, ‘দুর্যোগে কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার কারণে নেপালের বেশ কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।

নেপাল পুলিশসহ বিভিন্ন পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার ভিডিও প্রকাশ করেছে। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার পাহাড়ি উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবল বেগে কাদামিশ্রিত পানির স্রোত নেমে আসছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবিনারায়ণ কাফলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মাত্রা আমরা এখনো জানি না। তবে বন্যাটি বড় ধরনের এবং এতে অনেক জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।’

অবিনারায়ণ কাফলে আরও বলেন, নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসরত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের সব ধরনের সম্পদ ও জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শাহ বলেন, চিকিৎসক দল, স্কাউট এবং রেড ক্রসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এসব দুর্যোগের তীব্রতাও বাড়ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত