Ajker Patrika

কৃষক কার্ড

এক লাখ কৃষক অর্থ পাবেন উদ্বোধনী দিনে

  • ১৭ সেপ্টেম্বর কৃষক কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
  • কার্ডধারী কৃষক সহজে শনাক্ত করতে কার্ডে যুক্ত হচ্ছে কিউআর কোড।
  • ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক নিবন্ধিত। ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়েছে ১ লাখের।
  • আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন হয়েছে।
সাইফুল মাসুম, ঢাকা 
আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ১৬
এক লাখ কৃষক অর্থ পাবেন উদ্বোধনী দিনে
প্রতীকী ছবি।

কৃষক কার্ডে যুক্ত হচ্ছে কিউআর কোড। কার্ডধারী কৃষকদের শনাক্ত করতে ও তাঁদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে কার্ডে কিউআর কোড যুক্ত হচ্ছে। ফলে কার্ড স্ক্যান করলেই কার্ডধারী কৃষককে সহজে শনাক্ত করা যাবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, কৃষক কার্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেদিন ৫০ জেলায় উদ্বোধনী কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। সেদিন ফেনীর নিবন্ধিত সব কৃষকসহ সারা দেশের এক লাখ কৃষককে প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

কৃষক কার্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে গত রোববার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। সভা সূত্র জানায়, ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় কৃষক কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী এর আগে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ওই ধাপে দেশের ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়।

জানতে চাইলে গতকাল মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কৃষক কার্ড জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব মো. সেলিম খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনীতে কৃষক কার্ড কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেদিন ফেনীসহ ৫০ জেলায় উদ্বোধনী কর্মসূচি থাকবে। উদ্বোধনের দিন দেশের এক লাখ কৃষকের হাতে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে যাবে।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরা নগদ প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচসুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষিবিমাসহ ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন। পেশাজীবী হিসেবে কৃষকের স্বীকৃতি, আয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। কার্ডের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। প্রণোদনার অর্থ সরাসরি কৃষকের ব্যাংক হিসেবে পাঠানো হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষক কার্ডের কার্যক্রম চলছে। বিশ্বব্যাংক, ইফাদ ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পটি সংক্ষেপে ‘পার্টনার’ প্রকল্প নামে পরিচিত। প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ অর্থ এখনো দাতা সংস্থাগুলোর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রণোদনা দিতে রাজস্ব খাত থেকে ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে অর্থ বিভাগ। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে ৩৩৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, কৃষক কার্ডের নকশা ও কার্ডে প্রদর্শিত তথ্য ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন করে কার্ডে যুক্ত করা হয়েছে কিউআর কোড। ফলে কার্ড স্ক্যান করলে সহজেই কার্ডধারী কৃষকের পরিচয় শনাক্ত করা যাবে। এ বিষয়ে কৃষক কার্ড জাতীয় কমিটির সদস্য ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ার মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে কৃষক কার্ডে কিউআর কোড যোগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নিবন্ধনের আওতায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক

পার্টনার প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। নিবন্ধিত কৃষকদের প্রায় ৯৬ শতাংশ জমিতে ফসল চাষের সঙ্গে যুক্ত। মৎস্য চাষ করেন দেড় শতাংশ এবং গবাদিপশু পালন করেন প্রায় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। লবণচাষি রয়েছেন মাত্র ১৫৭ জন, যা মোট নিবন্ধিত কৃষকের শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

জমির মালিকানার হিসাবে নিবন্ধিত কৃষকদের ৪৩ শতাংশের বেশি ক্ষুদ্র কৃষক। তাঁদের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ৫০ থেকে ২৪৯ শতক। ৫ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক প্রান্তিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ। শূন্য থেকে ৫ শতক জমির মালিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৮ শতাংশ। ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক জমির মালিক মাঝারি কৃষক রয়েছেন ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। ৭৫০ শতকের বেশি জমির মালিক বড় কৃষক রয়েছেন শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ।

সূত্র জানায়, নিবন্ধিত এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন করা হয়েছে। ফেনীর নিবন্ধিত সব কৃষক উদ্বোধনের দিন প্রণোদনার অর্থ পাবেন। সেদিন দেশের মোট এক লাখ কৃষক প্রণোদনার অর্থ পাবেন। পরে কৃষক কার্ডের আওতায় আসা ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা এই প্রণোদনার অর্থ পাবেন।

চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য

পার্টনার প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী, দেশে কৃষকের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে বাকি কৃষকদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

জানতে চাইলে পার্টনার প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নিবন্ধিত কৃষকদের তথ্য আমরা দ্রুত যাচাই করে নির্ধারিত ব্যাংকে সরবরাহ করছি, যাতে ব্যাংকগুলো হিসাব খোলার পর উদ্বোধনের সময় কৃষকদের আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড সরবরাহ করতে পারে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত