Ajker Patrika

রুফটপ সোলার বসালে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ১৫ পয়সায় বিদ্যুৎ কিনবে সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ২৪
রুফটপ সোলার বসালে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ১৫ পয়সায় বিদ্যুৎ কিনবে সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

আগামী ছয় মাসের মধ্যে যাঁরা রুফটপ সোলার (ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ) স্থাপন করবেন, তাঁদের উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ১৫ পয়সা দরে কিনে নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি ছয়টি সম্পূরক প্রশ্নেরও জবাব দেন।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রয়োজনীয় পণ্য—সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ইত্যাদির ওপর আরোপযোগ্য বিভিন্ন শুল্ক ও কর শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে যাঁরা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তাঁদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ১৫ পয়সা দরে কিনবে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন ব্যয় গড়ে ছয় থেকে সাত টাকা হলে এ ব্যবস্থায় উৎপাদকদের মুনাফার সুযোগ তৈরি হবে। এই সুবিধা পরবর্তী তিন বছরের জন্য প্রযোজ্য হবে।

সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ইতিমধ্যে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি পানি, বায়ু ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য আগামী ১০ বছরের পরিকল্পনা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। কিছু বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। দ্রুতই জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী সংসদে দেশের সামনে আগামী ১০ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে কীভাবে সাজানো হবে, সেই পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যে লক্ষ্য সরকার নিয়েছে, তা অর্জনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে প্রস্তুত করা প্রয়োজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত