
জাপান প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এতদিন সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর প্রাণঘাতী নয় এমন পাঁচটি শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ ছিল। সেই বিধিনিষেধ এখন তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির পথ খুলে গেল। এতে জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্প বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্ষমতাসীন জোটের প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা আজ মঙ্গলবার এক বৈঠকে এই পরিবর্তন অনুমোদন করে। নতুন নীতিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি ‘অস্ত্র’—যেখানে যুদ্ধজাহাজ, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো প্রাণঘাতী ব্যবস্থা থাকবে। অন্যটি ‘অ-অস্ত্র’—যেখানে রাডার ও সুরক্ষা সরঞ্জামের মতো প্রাণঘাতী নয় এমন উপকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তবে প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানি করা হবে কি না—সে সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। এই পরিষদে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা থাকেন। জাপানের সঙ্গে যেসব দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি স্থানান্তর চুক্তি রয়েছে, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই এই রপ্তানি সীমাবদ্ধ থাকবে। বর্তমানে টোকিওর এমন চুক্তি রয়েছে ১৭টি দেশের সঙ্গে। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই সংখ্যা আরও বাড়বে। তবে যেসব দেশ এরইমধ্যে সক্রিয় সশস্ত্র সংঘাতে জড়িত, তাদের কাছে অস্ত্র রপ্তানি নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। জাপানের নিরাপত্তা প্রয়োজনের ভিত্তিতে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ ব্যতিক্রম রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।
জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা মঙ্গলবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো মিত্র ও সমমনা অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সক্ষমতা’ উন্নত করা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে জাপানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় আরও অবদান রাখাই এসব সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।’
এরপর, সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এর জবাব দেন। সমালোচকেরা বলছেন, এই শিথিলতা জাপানের যুদ্ধোত্তর শান্তিবাদী অবস্থান এবং ‘আত্মরক্ষামূলক নীতি’ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। জবাবে তাকাইচি লেখেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত ৮০ বছর ধরে আমরা যে শান্তিপূর্ণ জাতি হিসেবে পথ অনুসরণ করেছি, সেই প্রতিশ্রুতি ও মৌলিক নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বছরের শেষ নাগাদ দেশের তিনটি কৌশলগত নিরাপত্তা নথি সংশোধনের আলোচনা জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাপানের প্রতিরক্ষা রপ্তানি পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। বর্ধিত ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা শিল্প প্রকল্পে জাপানের বাড়তি সম্পৃক্ততা এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে যুদ্ধজাহাজ বিক্রির সফল দরপত্র—এসব বিষয় তাকাইচিকে এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেয়। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জোটের বড় জয়ের পর এই সুযোগ আরও জোরালো হয়।
জাপানের জন্য এই নীতিগত পরিবর্তন আরও নতুন সুযোগও তৈরি করবে। এর ফলে দেশটি তার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আরও বিস্তৃত ধরনের সরঞ্জাম অনুদান দিতে পারবে। এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নাম ‘অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’। গত ডিসেম্বরে ২০২৬ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ১৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ইয়েন (১১৪ মিলিয়ন ডলার) বাজেট অনুমোদনের পর এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগী দেশের সংখ্যা ৮ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১২-তে উন্নীত করা হচ্ছে।
টোকিওর চোখে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই সবচেয়ে কঠিন সময়—এই উপলব্ধির প্রতিফলনই হলো এই নতুন সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক আগ্রাসী অবস্থান জাপানের উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের মতো কোনো সংকট এশিয়াতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা জাপানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বাড়ছে। দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধ কিংবা গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। এই বাস্তবতায় সরকার দ্রুত যুদ্ধ-পরবর্তী প্রতিরক্ষা সীমাবদ্ধতাগুলো শিথিল করার পথে হাঁটছে। এই প্রেক্ষাপটে জাপান সরকার বলছে, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ শিথিল করলে ‘আরও অনুকূল’ নিরাপত্তা পরিবেশ তৈরি হবে। এর ফলে তারা ‘মনোভাবের দিক থেকে ঘনিষ্ঠ’ দেশগুলোর কাছে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারবে, যা প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
এর একটি বড় লক্ষ্য হলো ইন্দো-প্যাসিফিকসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করা, আর অস্ত্র বিক্রয়কে সেই কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। একই সঙ্গে কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করবে। কারণ, জাপানের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্প বর্তমানে মূলত দেশীয় চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। নতুন বাজার তৈরি হলে এই নির্ভরতা কমবে।
এদিকে, এক সম্পাদকীয়তে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জাপানের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, এটি ‘একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ, যা আশপাশের অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দেবে।’ সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, ‘জাপানের ডানপন্থী শক্তিগুলো পদ্ধতিগতভাবে যুদ্ধ পরবর্তী সেই প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বাধাগুলো ভেঙে দিচ্ছে, যেগুলো সামরিকতাবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে তৈরি করা হয়েছিল।’
জাপানের অভ্যন্তরেও জনমত বিভক্ত। সোমবার ইয়োমিউরি শিমবুনে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ মানুষ এই নিয়ম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন, ৪০ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন, আর ১১ শতাংশ কোনো মত দেননি। বিশ্লেষকদের মধ্যেও মতভেদ স্পষ্ট। কেউ কেউ মনে করেন, টোকিও সীমিত পরিসরে অস্ত্র বিক্রি করতে চাইবে এবং মূল গুরুত্ব দেবে কৌশলগত লাভে—যেমন নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করা এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানো। আবার অনেকে এটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়াবে, কারণ এতে চীনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসবেই। ইতিমধ্যেই বেইজিং জাপানের সামরিক সম্প্রসারণকে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন নিয়ন্ত্রণ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ঘরছাড়া করতে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, যৌন নিপীড়ন ও হয়রানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনটাই বলছেন মানবাধিকার ও আইনি বিশেষজ্ঞরা। ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুরা এসব বিষয়ে নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন।
২ ঘণ্টা আগে
মার্কিন শ্রমমন্ত্রী লরি শ্যাভেজ–ডিরেমার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে সরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। চলতি বছরের মার্চ মাসের পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়তে যাওয়া তৃতীয় নারী কর্মকর্তা তিনি।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা এ সপ্তাহে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো অনিশ্চয়তার মুখে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের পতাকাবাহী একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করার পর তেহরানের কর্মকর্তারা আলোচনায় না যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
৪ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তান সুদানের কাছে অস্ত্র ও যুদ্ধবিমান সরবরাহের জন্য ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্থগিত করেছে। মূলত পাকিস্তানের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশীদার সৌদি আরব এই চুক্তি বাতিল করার আহ্বান জানানোয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ।
৫ ঘণ্টা আগে