Ajker Patrika

রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব আবারও অস্বীকার মিয়ানমারের

এএফপি, ইয়াঙ্গুন
রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব আবারও অস্বীকার মিয়ানমারের
ফাইল ছবি

বাস্তুচ্যুত হয়ে মিয়ানমারের বাইরে থাকা নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির সরকার। তবে ‘রোহিঙ্গা’ নামে দেশটিতে জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকার কথা অস্বীকার করেছে তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়েছে।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর মিয়ানমার সরকার আবারও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল।

২০১৭ সালে রাখাইনে নির্যাতনের মুখে কক্সবাজারে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে ১২ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও মালয়েশিয়ায়ও পালিয়েছিল রোহিঙ্গারা। ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় বাস করছে। সেখানে মিয়ানমারের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুত নাগরিকেরাও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে মালয়েশিয়া সরকার।

এর আগে গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশটিতে থাকা ৫ হাজার নাগরিককে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া থেকে দেড় হাজার নাগরিক মিয়ানমারে ফিরে যাবে। তবে এই দলে কজন রোহিঙ্গা থাকবে সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী মাহমি ফাদজিল বলেন, নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যদি মিয়ানমার সরকার আবারও নিপীড়ন চালায় এবং তাদের জীবন যদি আবারও ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা থাকে তাহলে তাদের ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া।

এদিকে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মিয়ানমার গতকাল বলেছে, তারা (রোহিঙ্গা) যে জাতিসত্তার মানুষ হিসেবে দাবি করে সেটা মিথ্যা। মিয়ানমারে এই ধরনের কোনো জাতিসত্তার মানুষ নেই। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণের বিষয়েও নিন্দা জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার।

এই নিন্দা জানালেও কিংবা রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করলেও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোথাও রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেনি।

এদিকে রোহিঙ্গাদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মীরা। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এই জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের মিয়ানমারে পাঠানো হলে নতুন করে আবারও নির্যাতন শুরু হতে পারে; কারণ এর আগে তাদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সংস্থাটির গত বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ বর্তমানে মিয়ানমারে নেই।

এই পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার অনেক অভিবাসীকে আটককেন্দ্রগুলোয় রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রোহিঙ্গারাও রয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার যদি এই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তবে তারা সেখানে যেতে রাজি কি না এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারছে কি না—এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত