জাপানে বেড়াতে গিয়ে নতুন স্যুটকেস কিনে পুরোনোটি রাস্তায়, পার্কে কিংবা হোটেলের আশপাশে ফেলে যাচ্ছেন কিছু পর্যটক। এতে বাড়ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ। এই প্রবণতা ঠেকাতে টোকিওর তোশিমা ওয়ার্ডে অবৈধভাবে স্যুটকেস ফেলে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তির বিধান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাপানের সংবাদমাধ্যম ইয়োমিউরি শিম্বুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী টোকিওর ইকেবুকুরো শপিং এলাকার অন্তর্ভুক্ত তোশিমা ওয়ার্ডে ২০২৫ সালে প্রায় ২৯০টি পরিত্যক্ত স্যুটকেস পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে নতুন বিধি প্রণয়ন এবং একই বছরের এপ্রিল থেকে তা কার্যকরের পরিকল্পনা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইকেবুকুরো স্টেশনের আশপাশে হোটেল ও স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসন বেশি থাকায় সেখানে এ সমস্যা প্রকট। কর্মকর্তাদের ধারণা, কিছু পর্যটক জাপানে কেনাকাটার পর নতুন স্যুটকেস কিনে পুরোনোটি ফেলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ স্মারকসামগ্রী বহনের জায়গা তৈরি করতে কিংবা বিমানের অতিরিক্ত ব্যাগেজ ফি এড়াতে এমনটি করছেন। আবার দুর্বল ইয়েনের সুবিধা নিয়ে তুলনামূলক সস্তায় টেকসই জাপানি স্যুটকেস কিনেও পুরোনো ব্যাগ ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ছে। ইকেবুকুরো-হোনচোর এক বাসিন্দা ইয়োমিউরি শিম্বুনকে জানিয়েছেন, এলাকায় স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসন বাড়ার পর থেকে তিনি রাস্তায় ৫০ টিরও বেশি পরিত্যক্ত স্যুটকেস দেখেছেন।
পরিত্যক্ত ব্যাগের ভেতরে কী আছে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে অনেক বাসিন্দা পুলিশকে খবর দেন। তোশিমা ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের পরিচালক মিৎসুহিরো তাকাকুয়ার ভাষ্য, কখনো কখনো পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ভারী স্যুটকেস পরীক্ষা করতে হয়। এতে কর্মীদের অনেক সময় নষ্ট হয়।
নিক্কেইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টোকিওতে প্রায় ৪ হাজার ৬০০টি স্যুটকেস কুড়িয়ে পাওয়া সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার ৬০০। পুলিশ তিন মাস ধরে সংরক্ষণ করলেও প্রায় ৭০ শতাংশ স্যুটকেসের মালিক খুঁজে পাওয়া যায় না।
বিমানবন্দরগুলোতেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে নারিতা বিমানবন্দরে ১ হাজার ২০১টি পরিত্যক্ত স্যুটকেস পাওয়া গেছে, যা তিন বছর আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। নাগোয়ার চুবু সেন্ট্রেয়ার বিমানবন্দরে প্রতি মাসে প্রায় ৫০টি স্যুটকেস পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
জাপান ন্যাশনাল টুরিজম অর্গানাইজেশনের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা রেকর্ড ৪ কোটি ২৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০-তে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
জাপানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ১ কোটি ইয়েন জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।










