Ajker Patrika

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে নেপাল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ৫০
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে নেপাল
গত ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যায় নেপালে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: এএফপি

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতির জন্য জাতিসংঘের তহবিল থেকে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে নেপাল। চলতি বছরের ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির পর দেশটির জন্য ২ কোটি ডলার বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পুনরুদ্ধারে সহায়তার জন্য ২০২৩ সালে এই তহবিল গঠন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার তহবিলটি নেপালের জন্য ২ কোটি ডলার বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়। ২৬ আগস্টের ওই আকস্মিক বন্যায় নেপালে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

উন্নয়নশীল দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছে। নেপালকে অর্থ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে সেই দাবিকে বাস্তব আর্থিক সহায়তায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে তহবিলের নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার চাওয়া যায়। ওই বন্যার পর নেপাল সরকার তাদের অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে মোট ২৭০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে। সে তুলনায় জাতিসংঘের তহবিল থেকে পাওয়া অর্থ মোট ক্ষতির মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এক বিবৃতিতে এই অর্থ বরাদ্দকে ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার ও নেপালের সঙ্গে সংহতির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইউএনডিপি বলেছে, কপ-২৮ সম্মেলনের পর তহবিলটি কার্যকর হলেও হঠাৎ আঘাত হানা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো দেশকে সহায়তার জন্য এই প্রথম অর্থ অনুমোদন করা হলো। এই সিদ্ধান্ত নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

ইউএনডিপি আরও বলেছে, নেপালের বাইরেও এই সিদ্ধান্ত বিশ্বের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—দুর্যোগের সময় বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে এবং করা উচিত।

গত ৩১ আগস্ট নেপাল সরকার ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ হিসেবে ২ কোটি ডলারের জন্য জাতিসংঘের তহবিলে আবেদন করে। আগস্টের বন্যাটি চীনের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন শহর ও গ্রামগুলোতে আঘাত হানে। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ প্রকল্প, সড়ক ও স্কুল ভেসে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

দুর্যোগে প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের ৬০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন। নেপাল সরকারের হিসাবে, অন্তত ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ৫ হাজারের বেশি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

তহবিলে পাঠানো চিঠিতে নেপালের অর্থমন্ত্রী ড. স্বর্ণিম ওয়াগলে বলেন, স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ নেপাল। অন্যদিকে, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে নেপালের অবদান নগণ্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের অসম ও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া প্রভাব আমাদেরই এককভাবে বহন করতে হচ্ছে।

তবে এই অর্থকে যথেষ্ট মনে করছেন না নেপালের জলবায়ু আন্দোলনকর্মীদের কেউ কেউ। জলবায়ু আন্দোলনকর্মী ও নেপালের সাবেক সংসদ সদস্য রাজেন্দ্র বাগজাইন ২ কোটি ডলারকে ‘দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা সামান্য খাবারের কণার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, এটি ত্রাণ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি অপমান।

বাগজাইন বলেন, জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যতই আলোচনা করুক না কেন, দরিদ্র মানুষের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব বিশ্লেষণে ব্যর্থ হচ্ছে।

এদিকে এখন পর্যন্ত উন্নয়নশীল দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন দুর্যোগ থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য এই তহবিলে ১৭৬টি আবেদন করেছে। এসব আবেদনে মোট ২৮০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। বিপরীতে উন্নত দেশগুলো তহবিলটিতে এখন পর্যন্ত ৮০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত