Ajker Patrika

অফিস পলিটিকস: যেভাবে ২৫ বছরের করপোরেট ক্যারিয়ার হারিয়ে ট্যাক্সি ড্রাইভার হলেন তিনি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৩১
অফিস পলিটিকস: যেভাবে ২৫ বছরের করপোরেট ক্যারিয়ার হারিয়ে ট্যাক্সি ড্রাইভার হলেন তিনি
অফিস পলিটিকসের শিকার হয়ে কতজনের ক্যারিয়ার থেমে যায় মাঝপথেই! প্রতীকী ছবি

কর্মক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মিথ্যা অভিযোগের কারণে ২৫ বছরের সুদীর্ঘ করপোরেট ক্যারিয়ার হারিয়ে এক ব্যক্তির ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পেশাদারদের জন্য নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম লিঙ্কডইনে এই ঘটনাটি শেয়ার করেছেন মুম্বাইভিত্তিক পেশাদার অঞ্জলি সিং। রাঁচি থেকে বেঙ্গালুরু যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর জন্য তিনি ওই ব্যক্তির ট্যাক্সিতে উঠেছিলেন। যাত্রাপথেই ট্যাক্সিচালক নিজের জীবনের এই গল্প অঞ্জলিকে জানান।

অঞ্জলি সিংয়ের পোস্ট থেকে জানা যায়, ওই চালক টানা আড়াই দশক ধরে করপোরেট খাতে সফলভাবে কাজ করেছেন। কিন্তু একজন সহকর্মীর করা মিথ্যা অভিযোগ ও অফিসে নানামুখী রাজনীতির শিকার হয়ে তাঁকে চাকরি হারাতে হয়। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং তিনি গত দুই বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

আইনি লড়াই পরিচালনার পাশাপাশি জীবনধারণ ও পরিবারের খরচ মেটাতে বাধ্য হয়ে তিনি ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ওই ব্যক্তি জানান, করপোরেট প্রতিষ্ঠানে আগে তাঁর যে আয় ছিল, বর্তমানে ট্যাক্সি চালিয়ে তিনি তার মাত্র চার ভাগের এক ভাগ উপার্জন করছেন। ফলে চরম আর্থিক সংকট ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

ঘটনাটি তুলে ধরে অঞ্জলি সিং সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘কয়েক দশক ধরে কষ্ট করে গড়ে তোলা ক্যারিয়ার যে মাত্র কয়েক দিনে ধসে পড়তে পারে, তা এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করে অনুধাবন করা যায়। আমরা বছরের পর বছর ধরে দক্ষতা তৈরি করি, পদোন্নতি পাই এবং নিজেকে প্রমাণ করি। কিন্তু কখনো কখনো নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়গুলো সবকিছু বদলে দেয়।’

অঞ্জলি সিং আরও উল্লেখ করেন, ‘গল্পের প্রতিটি বিস্তারিত তথ্য শেষ পর্যন্ত বিচারে প্রমাণিত হোক বা না হোক, হঠাৎ করে ক্যারিয়ার হারানোর ফলে তৈরি হওয়া আবেগীয় ও আর্থিক ক্ষতিকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।’

এই অভিজ্ঞতার আলোকে অঞ্জলি সিং নতুন প্রজন্মের চাকরিজীবীদের জন্য কতগুলো সতর্কবার্তা ও পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পেশা বা পদবি কখনোই কোনো মানুষের একমাত্র পরিচয় হতে পারে না। বিপদে পড়ার আগেই একটি জরুরি তহবিল তৈরি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই সঙ্গে নিয়মিত নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করা এবং নিজের কর্মক্ষেত্রের বাইরেও পেশাদার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা উচিত।

অঞ্জলির পরামর্শ হলো, কর্মক্ষেত্রে অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে ন্যায়সংগত ও দায়িত্বশীল আচরণ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ নিজের স্বার্থে করা একটি ভুল বা মিথ্যা পদক্ষেপ অন্য একজন মানুষের পুরো জীবন ও পরিবার ধ্বংস করে দিতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর বহু নেটিজেন কর্মক্ষেত্রের টক্সিক পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং ভুক্তভোগী চালকের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত