
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন হামাস তাদের নতুন রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে খলিল আল-হাইয়াকে নির্বাচিত করেছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যেই অনুষ্ঠিত অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সংগঠনের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসীন হন। এর আগে ২০২৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে হামাসের প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হয়েছিলেন। সিনওয়ার নিজেও ওই বছরের শুরুতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত পূর্ববর্তী রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার উত্তরসূরি ছিলেন।
সোমবার (২০ জুলাই) আল-জাজিরা জানিয়েছে, হামাসের জেনারেল শুরা কাউন্সিলের ভোটে সাবেক রাজনৈতিক প্রধান খালেদ মেশালের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আল-হাইয়া। প্রথম দফার ভোটে কেউই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় রান-অফ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শেষ পর্যন্ত সেই ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান নির্বাচিত হন। ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলমান মেয়াদের অবশিষ্ট সময় তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।
১৯৬০ সালের ৫ নভেম্বর গাজা সিটিতে জন্ম নেওয়া খলিল আল-হাইয়া ছোটবেলায় ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং পরবর্তী ইসরায়েলি দখলদারত্বের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন। পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বাড়িতে সামরিক অভিযানের ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক চেতনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৮০ সালে হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমেদ ইয়াসিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সংগঠিত ইসলামি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন আল-হাইয়া। গাজার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক, জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং পরে সুদান থেকে তিনি হাদিস বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থী বিষয়ক ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৭ সালে হামাস প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি সংগঠনের সদস্য ছিলেন। প্রথম ইন্তিফাদার সময় একাধিকবার ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হন এবং নির্যাতনের শিকার হন বলে জানা যায়। ২০০৬ সালে তিনি ফিলিস্তিনি আইনসভায় নির্বাচিত হন এবং হামাসের সংসদীয় দলের নেতৃত্ব দেন।
গত দুই দশকে আল-হাইয়া হামাসের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গাজায় হামাসের উপপ্রধান এবং আরব ও ইসলামি সম্পর্কবিষয়ক কার্যালয়ের প্রধান ছিলেন। ২০১২ ও ২০১৪ সালে গাজায় যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি আলোচনায় হামাসের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বও দেন তিনি।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি বিনিময় সংক্রান্ত পরোক্ষ আলোচনায় হামাসের প্রধান আলোচক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এই নেতা। কাতারকে ভিত্তি করে তিনি আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা পরিচালনা করেন এবং লেবাননে হিজবুল্লাহ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
আল-হাইয়ার রাজনৈতিক জীবন বারবার ইসরায়েলি হামলার মুখে পড়েছে। ২০০৭ সালে তাঁর বাড়িতে বিমান হামলায় দুই ভাইসহ সাত স্বজন নিহত হন। ২০০৮ সালে কাসসাম ব্রিগেডের সদস্য তাঁর ছেলে হামজা ড্রোন হামলায় নিহত হন। ২০১৪ সালের যুদ্ধে তাঁর স্ত্রী, বড় ছেলে ও তিন নাতি-নাতনির মৃত্যু হয়। ২০২৫ সালে কাতারের দোহায় একটি আবাসিক ভবনে হামলায় তিনি নিজে বেঁচে গেলেও তাঁর আরেক ছেলে, ব্যক্তিগত কার্যালয়ের পরিচালক ও নিরাপত্তারক্ষীরা নিহত হন। চলতি বছর গাজায় আহত হওয়ার পর তাঁর আরেক ছেলে আজ্জামেরও মৃত্যু হয়।
যুদ্ধের মধ্যেও আনুষ্ঠানিক ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনকে হামাসের সাংগঠনিক কাঠামোর দৃঢ়তার নিদর্শন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, সংকটকালেও সংগঠনটি পূর্বনির্ধারিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেতৃত্ব নির্বাচন করেছে, যা হামাসের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতাকে তুলে ধরে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী কয়েক বছরে ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশে সীমিত পরিসরের হামলা চালাতে পারেন। এর লক্ষ্য হবে মূলত জোটের দৃঢ়তা পরীক্ষা করা। নতুন মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে সাইবার হামলা থেকে শুরু করে ছোট আকারের স্থল অভিযান পর্যন্ত রয়েছে।
১৩ মিনিট আগে
বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের প্রাথমিক কাঠামো ও ভিত্তিমূলক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল–শেহরিকে জোটটির কমান্ডার হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। সদ্য প্রতিষ্ঠিত এই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের লক্ষ্য হলো লোহিত সাগর...
১ ঘণ্টা আগে
আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা মহামারি। একই সঙ্গে এটিকে এ পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে ...
১ ঘণ্টা আগে
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘রিপাবলিক বাংলা’র অন্যতম পরিচিত ও বিতর্কিত টেলিভিশন সঞ্চালক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ চ্যানেলটি ত্যাগ করেছেন। বেশ কিছু দিন ধরে তাঁর পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
৩ ঘণ্টা আগে