Ajker Patrika

হঠাৎ কেন রিপাবলিক বাংলা ছাড়লেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হঠাৎ কেন রিপাবলিক বাংলা ছাড়লেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ
বিতর্কিত টিভি উপস্থাপক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘রিপাবলিক বাংলা’র অন্যতম পরিচিত ও বিতর্কিত টেলিভিশন সঞ্চালক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ চ্যানেলটি ত্যাগ করেছেন। বেশ কিছু দিন ধরে তাঁর পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

তবে ঠিক কী কারণে তিনি হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পদত্যাগ করলেন এবং পরবর্তীতে তিনি কোন সংবাদমাধ্যমে বা প্ল্যাটফর্মে যোগ দেবেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি। রিপাবলিক বাংলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।

গত বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ লেখেন, ‘হ্যাঁ ঠিক খবর। ময়ূখ রিপাবলিক ছেড়েছে। আজ সকালে শেষ দিন ছিল রিপাবলিক বাংলা সংস্থায়।’

তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তটি আকস্মিক নয় এবং বেশ কিছুদিন আগেই তিনি পদত্যাগের বিষয়ে মনস্থির করেছিলেন। গণমাধ্যমে নিজের অবস্থান ও সাংবাদিকতার লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে তিনি লেখেন, ‘আমার কাজ কী? গণজ্ঞাপন করা। রাষ্ট্রবাদের হয়ে হিন্দুত্ববাদের হয়ে জাগরণ। দেশবিরোধী ন্যারেটিভ আটকে দেওয়া।’

টেলিভিশন মাধ্যমের চিরাচরিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে বিকল্প মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘আপনাকে টিভিতেই এসে আমাকে শুনতে হবে? ওমুক সময় অবধি অপেক্ষা করে থাকতে হবে? পেপার পেতে পেতে সকাল? পরিষ্কার হলো না তো? বেশ তাহলে কাল আরও বিস্তারিত লিখব।’

নিজের অনুরাগী ও সমালোচকদের বিষয়ে মন্তব্য করে তিনি উল্লেখ করেন, সংবাদমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি সব সময়ই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে—যেখানে একদল দর্শক তাঁকে সমর্থন করেছেন, আবার অন্যদল তীব্র সমালোচনা করেছেন।

পদত্যাগের বার্তার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে করা তাঁর একাধিক সামাজিক মাধ্যম পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একটি পৃথক পোস্টের মাধ্যমে তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে সংঘটিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটকে ‘একটি ত্রুটিপূর্ণ, সুপরিকল্পিত গভীর-রাষ্ট্রীয় (deep-state) অভিযান’ বলে বর্ণনা করেন। পাশাপাশি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেন।

পরবর্তী পেশাগত পদক্ষেপর আভাস দিয়ে তিনি লেখেন, ‘সবার আগে সব খবর দেব। কলকাতা থেকে কারাকাস, ঢাকা থেকে দামাস্কাস—নজর রাখুন।’ তাঁর এই বক্তব্যকে একটি স্বাধীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

বাংলা টেলিভিশন সাংবাদিকতায় ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ দ্রুত স্থান করে নিয়েছিলেন তাঁর আগ্রাসী স্টুডিও উপস্থাপন শৈলী ও আক্রমণাত্মক লাইভ রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে। বিশেষ করে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের ঘটনা, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সহিংসতা, মুর্শিদাবাদের হিংসা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে তাঁর সংবাদ পরিবেশনা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

তবে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপনের চেয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁর একাধিক প্রতিবেদন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত ও ট্রলের শিকার হয়।

সংবাদ বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তাঁর পরিবেশনা শৈলী নির্দিষ্ট একদল দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হলেও, সাংবাদিকতার মূলনীতি ও বস্তুনিষ্ঠতার দিক থেকে তা প্রায়শই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সহকর্মী ও সংবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ অফিশিয়াল ই-মেইল ব্যবহার বন্ধ করেছেন এবং নিউজরুম ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের বিভিন্ন হোয়্যাটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

চ্যানেল ত্যাগের বিষয়ে ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম কলকাতা২৪x৭। তবে তাঁর কাছ থেকে সরাসরি কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, রিপাবলিক বাংলা কর্তৃপক্ষও এ নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।

তিনি কি অন্য কোনো মূলধারার টেলিভিশন স্যাটেলাইট চ্যানেলে যোগ দেবেন, নাকি সম্পূর্ণ নিজস্ব কোনো ইউটিউব বা ডিজিটাল মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করবেন—সে প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত