Ajker Patrika

মাউন্ট এভারেস্টে নতুন বিপদ—কিং কোবরা!

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১১ জুন ২০২৫, ১৫: ৫১
ছবি: কাঠমান্ডু পোস্ট
ছবি: কাঠমান্ডু পোস্ট

ঠান্ডা মৌসুমে সাধারণত শীতনিদ্রায় যায় বিষধর সাপ। ঋতুবদলের পর যখন আবারও উষ্ণ হয়ে ওঠে প্রকৃতি, তখনই এরা নতুন শিকারের সন্ধানে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে। কিন্তু প্রকৃতির এই চিরাচরিত হিসাবও যেন বদলে যাচ্ছে। এভারেস্টের মতো একটি শীতল অঞ্চলেও এখন সাপের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। তা-ও আবার সাধারণ কোনো সাপ নয়, পৃথিবীর অন্যতম বিষধর সাপ কিং কোবরার দেখা মিলছে সেখানে।

এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণের সময় পদে পদে নানা বিপদকে অতিক্রম করে যেতে হয় পর্বতারোহীদের। তুষারঝড়, তুষারধসের ঝুঁকি যেমন থাকে, তেমনই জলবায়ু পরিবর্তন এবং দূষণও মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এবার তাঁদের বিপদের খাতায় নতুন যোগ হয়েছে সাপ।

সম্প্রতি কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, এভারেস্টের কাছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে গত এক মাসে ১০-১২টি বিষধর সাপ উদ্ধার হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৯টি সাপই ছিল কিং কোবরা, আরেকটি ছিল মোনোক্লেড কোবরা।

সাধারণত জলাভূমিতে বা খাল-বিলের কাছাকাছি এলাকায় এই ধরনের বিষধর সাপ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ম্যানগ্রোভ বন, ধানের খেতেও এদের দেখা পাওয়া যায়। তাই মাউন্ট এভারেস্ট-সংলগ্ন ঠান্ডা জায়গায় একের পর এক সাপ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এটি অনেকে ভয়ংকর বিপদের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। মাউন্ট এভারেস্টের নিকটবর্তী অঞ্চলে কিং কোবরার মতো বিষধর সাপের খোঁজ পাওয়ার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, তাদের আশ্রয়স্থল বদলের সংযোগ দেখছেন পরিবেশবিদেরা।

কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী—গোপালেশ্বর, সোখোল, ফুলচকের মতো পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সাপগুলোর খোঁজ মিলেছে। কোথাও বাড়ির উঠোনে, আবার কোথায় বসতির ভেতরেই ছিল উদ্ধার করা সাপগুলো। বন দপ্তরকে খবর দেওয়া হলে তারা এগুলো উদ্ধার করে আবারও জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জঙ্গলেও কিং কোবরার ডিম দেখেছেন তাঁরা। সেখানে সাপের বাসা চোখে পড়েছে।

পরিবেশবিদদের একাংশের ধারণা, এটি আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। ঠান্ডা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করেছে কিং কোবরার মতো বিষধর সাপ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এমন ঘটছে। অন্যান্য এলাকায় তাপমাত্রা এত বেড়ে গেছে যে সেখানে এসব সাপ টিকতে পারছে না। আবার ঠান্ডা জায়গায়গুলোও আগের মতো ঠান্ডা থাকছে না। এর ফলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরে আসছে বিষধর সাপগুলো।

নেপালের পার্বত্য অঞ্চলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব চোখে পড়ার মতো। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর নেপালের তরাই অঞ্চলে সাপের কামড়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে। আর মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই থাকেন নারী ও শিশু। বন থেকে কাঠ এবং খড় বোঝাই করে আনার সময় গাড়িতে সাপ উঠে যাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন কেউ কেউ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এনইআইআর চালু করায় বিটিআরসি ভবনে মোবাইল ব্যবসায়ীদের হামলা-ভাঙচুর

ভোলা-২: আম-ছালা দুটোই খোয়ালেন নারী প্রার্থী তাছলিমা

কাজী নজরুলের ‘বিদায় বেলায়’ কবিতায় দাদিকে স্মরণ জাইমা রহমানের

ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে মোবাইল ফোনের শুল্ক ও কর কমাল সরকার

পটুয়াখালী-৩ আসনে নুর-হাসান মামুনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত