
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের গেরাশে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার (৬ দশমিক ২১ মাইল) গভীরে। সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আল অ্যারাবিয়ার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গেরাশ ইরানের ফারস প্রদেশে অবস্থিত। অঞ্চলটি প্রায়ই ভূমিকম্পের কবলে পড়ে। কারণ, এটি জাগরোস ফল্ড অ্যান্ড থ্রাস্ট বেল্টের ওপর অবস্থিত, যেখানে আরবীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ঘটে। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ভূকম্পনপ্রবণ এলাকাগুলোর একটি হিসেবে এই অঞ্চল পরিচিত। এখানে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে সাধারণ ঘটনা।
ভূমিকম্পটির সময় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অনেকে ধারণা করছেন, এটি কোনো গোপন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
তবে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক বিস্ফোরণের ভূকম্পনীয় স্বাক্ষর প্রাকৃতিক ভূমিকম্প থেকে ভিন্ন হয়। এতে প্রাথমিক তরঙ্গ (পি-ওয়েভ) অনেক বেশি শক্তিশালী হয় এবং সেকেন্ডারি তরঙ্গ (এস-ওয়েভ) তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে। গেরাশের ঘটনাটি প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে রেকর্ড হয়েছে, যা অঞ্চলটির স্বাভাবিক টেকটোনিক কার্যকলাপের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই জল্পনা আরও উসকে দিয়েছে অন্যত্র ঘটে যাওয়া ভূকম্পন। গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে ১০০টির বেশি ক্ষুদ্র ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এতে অনলাইনে সম্ভাব্য পারমাণবিক তৎপরতা নিয়ে নানা তত্ত্ব ছড়িয়েছে।
এসব কম্পন শনাক্ত হয়েছে টোনোপাহ টেস্ট রেঞ্জের কাছাকাছি এলাকায়। এটি একটি অত্যন্ত গোপন সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্র, যা জনপ্রিয় আলোচনায় অনানুষ্ঠানিকভাবে কথিত ‘এরিয়া-৫২’-এর সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা জোরদার করছে, তখন এই ক্ষুদ্র ভূমিকম্পগুলোর ক্লাস্টার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কৌশলগত মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার প্রধান গতকাল সোমবার জানিয়েছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দেশটির কোনো পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষতি হয়েছে বা আঘাত হেনেছে—এমন কোনো ইঙ্গিত তাদের সংস্থার কাছে নেই। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থায় ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা নাতানজে হামলা হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
গত বছরের জুনে ১২ দিনের এক যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এর মধ্যে নাতানজও ছিল। এর পর থেকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের ওই স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সে সময়ও ইরানে ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। তখনো ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট ভূমিকম্প নিয়ে ইরাকের সুমের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকম্পবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী রামথান স্থানীয় শাফাক নিউজকে বলেন, এটি এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ভূমিকম্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, এটি একটি ক্ল্যাসিক রিভার্স ফল্ট ভূমিকম্প ছিল, যা ১৪৯টি বৈশ্বিক স্টেশনে রেকর্ড করা হয়েছে। এই গভীরতায় কোনো পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো সম্ভব নয়—এটি ভূতাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব।
অধ্যাপক ড. আলী রামথান জোর দিয়ে বলেন, ভূমিকম্প তরঙ্গগুলো একটি প্রাকৃতিক কম্পনের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য বহন করে, যেখানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক তরঙ্গের ধরন টেকটোনিক ক্রিয়ায় পরিলক্ষিত ধরনগুলোর সঙ্গে মিলে যায়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপসহ (ইউএসজিএস) আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করেছে।
রামথান একটি গোপন পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাবনাও বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি সক্রিয় চ্যুতিরেখার (ফল্ট লাইন) কাছাকাছি এমন পরীক্ষা চালানো হলে বিপর্যয়কর ভূমিকম্পের সৃষ্টি হতে পারে, যা সব পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন দেশ সক্রিয়ভাবে এড়িয়ে চলে।
রামথান বলেন, পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে সৃষ্ট ভূমিকম্প অগভীর হয় এবং কদাচিৎ ৩ মাত্রার বেশি হয়। এটি ৫ মাত্রা অতিক্রম করেছে, এই মাত্রা ভূকম্পন তৈরির জন্য কয়েক মিলিয়ন টন টিএনটির (বিস্ফোরণের শক্তির একক) সমতুল্য শক্তি প্রয়োজন। কোনো পরিচিত পারমাণবিক বোমার সক্ষমতার অনেক ঊর্ধ্বে এই কম্পন। তিনি এই জল্পনাকে ‘বৈজ্ঞানিক অজ্ঞতা বা রাজনৈতিক চাল’ বলে অভিহিত করে বলেন, ভূমিকম্পটি সম্পূর্ণই প্রাকৃতিক ছিল।
কাস্পিয়ান সাগর ও ইরানের কেন্দ্রীয় মালভূমির মধ্যে অবস্থিত আলবোর্জ পর্বতমালা দেশের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বেশ কয়েকটি বড় ভূমিকম্প হয়েছে এই এলাকায়।

ইরানি হামলার জেরে সৌদি আরব ও কুয়েতে দূতাবাস বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে মার্কিন দূতাবাস থেকে জরুরি নয় এমন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
৩৭ মিনিট আগে
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। টানা ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা লড়াইয়ের পর, অভিযানে ব্যবহৃত কিছু অস্ত্রব্যবস্থা বিশ্লেষণের মতো পর্যাপ্ত তথ্য ও ভিডিওচিত্র এখন পাওয়া যাচ্ছে। এই অভিযান একাধিক দিক থেকে প্রথমের সাক্ষী।
১ ঘণ্টা আগে
ইরানের ওপর ভয়াবহ বিমান হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক কী শব্দ ব্যবহার করেছিলেন, তা প্রকাশ করেছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। গত শুক্রবার বিকেলে এয়ারফোর্স ওয়ানে থাকা অবস্থায় মাত্র ৯টি শব্দের একটি বার্তার মাধ্যমে এই অভিযানের সবুজ
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশ অবিলম্বে ত্যাগ করার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে। কনস্যুলার বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘গুরুতর ঝুঁকির’ কারণে পররাষ্ট্র দপ্তর আমেরিকান...
৩ ঘণ্টা আগে