Ajker Patrika

কিউবার অর্থনীতি ভঙ্গুর হলেও সরকার পতনের ঝুঁকি নেই, কারণ জানাল সিআইএ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ৫৯
কিউবার অর্থনীতির মূল স্তম্ভ কৃষি ও পর্যটন খাত এখন ধ্বংসের মুখে। ছবি: এএফপি
কিউবার অর্থনীতির মূল স্তম্ভ কৃষি ও পর্যটন খাত এখন ধ্বংসের মুখে। ছবি: এএফপি

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ‘শোচনীয়’ হিসেবে বর্ণনা করলেও, দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার—এমন কোনো প্রমাণ পায়নি। গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, কারাকাসের সমর্থন হারিয়ে কিউবা এখন ‘পতনের জন্য প্রস্তুত’। তবে সিআইএর গোপন মূল্যায়ন বলছে ভিন্ন কথা।

সিআইএর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিউবার অর্থনীতির মূল স্তম্ভ—কৃষি ও পর্যটন খাত এখন ধ্বংসের মুখে। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো—ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিউবায় বর্তমানে দৈনিক গড়ে ২০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। দ্বীপ রাষ্ট্রটির জনসংখ্যায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। সিআইএর এক কর্মকর্তার মতে, ২০২৩ সালে কিউবার জনসংখ্যা এক কোটির বেশি থাকলেও বর্তমানে তা ৯০ লাখের নিচে নেমে এসেছে।

পাশাপাশি ৫০ বছরের কম বয়সী বিশাল এক জনগোষ্ঠী দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য যে যুবশক্তির প্রয়োজন, তার অভাবেই সরকারবিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে পারছে না।

গত রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে বসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিউবার পতন এখন সময়ের ব্যাপার। তাদের এখন কোনো আয় নেই। তারা তেলের জন্য সম্পূর্ণ ভেনেজুয়েলার ওপর নির্ভরশীল ছিল।’ তবে সিআইএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নব্বইয়ের দশকের সেই ভয়াবহ ‘স্পেশাল পিরিয়ড’-এর (সোভিয়েত পতনের পরবর্তী সময়) মতো অতটা খারাপ পর্যায়ে এখনো পৌঁছায়নি।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক রিচার্ড ফেইনবার্গ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘যখন একটি জনগোষ্ঠী প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত থাকে, তখন তাদের একমাত্র চিন্তার বিষয় হয় পরিবারের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়া। রাজনীতি নিয়ে ভাবার সময় তাদের থাকে না।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘মানুষ যখন একেবারেই মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন তারা ভয় হারায় এবং রাজপথে নেমে আসে।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২১ সালে দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-ক্যানেলের সেই জনপ্রিয়তা নেই, যা বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ছিল। তাই সরকার পতনের ঝুঁকি বাড়ছে।’

মাদুরোকে আটকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগুয়েজের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে যাতে ভেনেজুয়েলার সব তেল এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। এর ফলে কিউবার সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার সিয়েনফুয়েগোস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। রাশিয়া বা মেক্সিকো কিউবাকে সাহায্য করার চেষ্টা করলেও তেলের গুণগত মানের পার্থক্যের কারণে কিউবার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তা দিয়ে চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মানুষ মনে করে, ৫ আগস্টের আগের পুলিশ কেন গ্রেপ্তার করবে, কেন রাস্তা ছাড়তে বলবে—আইজিপির আক্ষেপ

আযাদ, জারাসহ ৫১ জন ফিরে পেলেন প্রার্থিতা

গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গ্যাবার্ডকে মাদুরো উৎখাতের পরিকল্পনার বাইরে রেখেছিলেন ট্রাম্প

‘ভারতের কোনো ভেন্যুতেই খেলবে না বাংলাদেশ’

বিনা মামলায় আ.লীগের নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হলে থানা ঘেরাও করব: হারুনুর রশীদ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত