Ajker Patrika

সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত হচ্ছে বিদ্রোহী কুর্দিরা, চুক্তি স্বাক্ষর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ২৬
সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত হচ্ছে বিদ্রোহী কুর্দিরা, চুক্তি স্বাক্ষর
সিরিয়ার আইন আল-আরব শহরে কুর্দি এসডিএফ বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: এএফপি

সিরিয়ার কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী দেশটির সরকারের সঙ্গে এক বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় তারা সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে একীভূত হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে উৎখাত করার পর দেশটির ওপর নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে দামেস্কের অন্তর্বর্তী সরকার গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের উত্তরে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছিল।

তবে গত প্রায় এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ধীরে ধীরে একটি চুক্তিতে রূপ নেয়। আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এসডিএফ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই চুক্তির আওতায় কুর্দি সামরিক বাহিনীকে ধাপে ধাপে সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে একীভূত করা হবে। এর কিছুক্ষণ পর সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে। তারা জানায়, এই চুক্তির ফলে কুর্দি বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে। সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে।

চুক্তিটি এমন এক সময় এল, যখন গত তিন সপ্তাহে সিরিয়ার সেনাবাহিনী এসডিএফের কাছ থেকে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। ঘটনার এই দ্রুত মোড় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর আগে কুর্দি যোদ্ধা ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করতে কয়েক মাস আলোচনা চললেও তাতে তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় তাঁর সরকার হতাশায় ভুগছিল।

চুক্তি অনুযায়ী, এসডিএফ বাহিনী রণক্ষেত্র ত্যাগ করে সরে যাবে। সরকারি বাহিনী হাসাকাহ ও কামিশলির শহর কেন্দ্রে মোতায়েন হবে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে একীভূত করা হবে। এসডিএফের তিনটি ব্রিগেড নিয়ে একটি নতুন সামরিক ডিভিশন গঠন করা হবে। এ ছাড়া কোবানে শহরে (যা আইন আল-আরব নামেও পরিচিত) অবস্থিত আরেকটি ব্রিগেডকে আলেপ্পো গভর্নরেটের অধীনে যুক্ত করা হবে। আলেপ্পো সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুর্দি-অধ্যুষিত অঞ্চলের প্রধান শহর। এসডিএফের বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীগুলোর প্রতিষ্ঠিত শাসন ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করা হবে।

একসময় সিরিয়ার মোট ভূখণ্ডের এক-চতুর্থাংশ বা তারও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা এসডিএফের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ছিল। বিশেষ করে আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন বাহিনী ১৪ মাস আগে বাশার আল-আসাদকে উৎখাতে অভিযান শুরু করার পর থেকেই প্রশ্নটি বড় হয়ে ওঠে। আল-শারার একসময় আইএসআইএলের (আইএস) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল।

কুর্দি রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোকে রাষ্ট্রের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার একটি চুক্তি প্রথম হয় ২০২৫ সালের মার্চে। তবে বছরের শেষ সময়সীমার আগেও সেটির বাস্তবায়নে খুব কম অগ্রগতি হয়। এর ফলে সরকারি বাহিনী আবারও সামরিক অভিযান জোরদার করে। গত এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মোটামুটি বজায় ছিল বলে মনে করা হলেও উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এই অবস্থায় কুর্দি বাহিনী ক্রমেই চাপের মুখে পড়ে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাদের ঘাঁটি ধরে রাখা কঠিন হয়ে ওঠে।

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত টম বারাক শুক্রবারের এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এটি অন্তর্ভুক্তি, পারস্পরিক সম্মান ও সিরিয়ার সব জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত মর্যাদার প্রতি এক যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, সিরিয়ার পরিস্থিতির অগ্রগতিতে তিনি ‘খুবই সন্তুষ্ট।’ আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি এই মন্তব্য করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, আল-শারা তাঁর আগের আইএসআইএলে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পেছনে ফেলে বিশ্বনেতাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার নিয়ে তাঁরা তাঁকে সুবিধা দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে আল-শারা জোর দিয়ে বলেন, ‘সিরিয়ার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে’ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সরকার আন্তরিক। এর আগে আইএসআইএলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসডিএফকে সমর্থন দিলেও এখন স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আল-শারাকেই তাদের প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছে।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আল-শারা সব দিক থেকে সিরিয়ার বৈদেশিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে বৈঠক করেন। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ওই বৈঠকে আগ্রহ দেখায় ক্রেমলিন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত