Ajker Patrika

দিল্লি কাঁপাচ্ছে ২১ দিনের ‘ককরোচদের’ দল, যোগ দিলেন ‘র‍্যাঞ্ছো’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ১৬: ৩৯
দিল্লি কাঁপাচ্ছে ২১ দিনের ‘ককরোচদের’ দল, যোগ দিলেন ‘র‍্যাঞ্ছো’
দিল্লিতে ককরোচদের আন্দোলনে সোমান ওয়াংচুক। ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির যন্তর মন্তরে গতকাল শনিবার হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়ে দ্রুত জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি–সিজেপি’ তাদের ২ কোটি ২০ লাখ ইনস্টাগ্রাম অনুসারীকে প্রথম অফলাইন বিক্ষোভে অংশ নিতে আহ্বান জানায়। বিক্ষোভে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তার নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সিবিএসই ও নিট পরীক্ষা ‘ব্যর্থতা’ বা বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়েছে। কড়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই বিক্ষোভটি আজ রোববারও চলমান। এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন ভারতের বাস্তব দুনিয়ার ‘র‍্যাঞ্ছো’ হিসেবে পরিস্থিতি সোনাম ওয়াংচুক। র‍্যাঞ্ছো, ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক আলোচিত চরিত্র। ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমায় আমির খান অভিনীত চরিত্রটি আজও সাড়া ফেলে। অনেকেই বলেন, এই চরিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছিল সোনাম ওয়াংচুককে মাথায় রেখেই।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দিপকে গতকাল শনিবারই ভারতে ফেরেন এবং বিমানবন্দরে অবতরণের সময় তিনি বলেন, তিনি ‘সবার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছেন।’ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে—যাদের বড় অংশই শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবী—দীপকে স্লোগান দেন, ‘দেশের যুবসমাজ আর ভয় পাবে না, তারা লড়বে। তেলাপোকাও ভয় পায় না, তারা কখনও মরে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলুন তাদের বলি আমরা আর তাদের ভয়ের রাজনীতিতে ভয় পাব না...ধর্মের রাজনীতি বন্ধ করো! ‘হিন্দু-মুসলিম’ রাজনীতি বন্ধ করো!’ তাঁর বক্তব্যে উপস্থিতরা ‘বন্ধ করো’ স্লোগানে সাড়া দেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই দিপকের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ‘আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এক মাস ধরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছি, কিন্তু তারা এতটাই লজ্জাহীন যে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে অন্য দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যেমন আমাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা এবং আমাদের পোস্ট মুছে ফেলা।’

সরকারের বিরুদ্ধে সিজেপির অভিযোগ, মোদি সরকার তাদের ক্রমবর্ধমান অনলাইন প্রভাব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সংগঠনটির দাবি, ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর সংখ্যা বিজেপির চেয়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি। এর অংশ হিসেবে ভারতে তাদের এক্স অ্যাকাউন্টও ব্লক করা হয়েছে। দিপকে আরও অভিযোগ করেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা হয়েছে। পাশাপাশি শাসক দলের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে সিজেপির অধিকাংশ অনুসারী পাকিস্তান বা ভারতের বাইরে থেকে এসেছে, যা তিনি মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন।

যন্তর মন্তরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম আরও বাড়তে থাকে। বিক্ষোভকারীরা ‘গোদি মিডিয়া হায় হায়’ স্লোগান দেন, যা মূলধারার গণমাধ্যমের একাংশের সমালোচনা এবং প্রেস স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

পরে, শনিবার বিকেলে শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকও বিক্ষোভে যোগ দেন। তিনি এর আগে ঘোষণা করেছিলেন, ৫ জুনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে তিনি আন্দোলনে অংশ নেবেন।

সিজেপি এক্স পোস্টে জানায়, ‘ভারতের সংবিধানের পূর্ণ সমর্থনে, ককরোচরা যন্তর মন্তরে সকাল ১০টা থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আমাদের প্রতিবাদ শুরু করবে। অভিজিত দিপকে যন্তর মন্তরের পথে আছেন।’

মাত্র ২১ দিন আগে, গত ১৬ মে সিজেপি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে ডিজিটাল আন্দোলন হিসেবে জন্ম নেওয়া এই উদ্যোগ দ্রুতই বিস্তৃত হয়। শিক্ষাক্ষেত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, ক্লান্তি, সংশয় এবং চলমান রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে এটি ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর জন-আন্দোলনের রূপ নেয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত