
ইরান যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারীরা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর নতুন করে জোর দিয়েছেন। এরই মধ্যে তেহরান জানিয়েছে, স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করতে তাদের কী কী শর্ত রয়েছে, তার একটি তালিকা তৈরি করবে তারা। কাতারের এক দূত ইরানিদের আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা মেনে চলার আহ্বান জানানোর পর তেহরান এই উদ্যোগে সম্মত হয়েছে।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল–আওসাতের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে সরে গিয়ে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পথ বেছে নেওয়ার পর কাতারের প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার তেহরানে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের আগের মতো অবাধ জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর গুরুত্ব তুলে ধরেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
কাতার ও পাকিস্তান গত জুনে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরিতে মধ্যস্থতা করেছিল। ওই সমঝোতার মাধ্যমে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। হরমুজ প্রণালি হলো ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু একটি জলপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর তেহরান হুমকি দেয়, তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী যেকোনো জাহাজে তারা হামলা চালাবে। এর ফলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যায় এবং তেলের দাম বেড়ে যায়। এতে আলোচনায় ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা অর্জন করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার তেহরান সফরের সময় কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, তিনি ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে সম্মান করার গুরুত্ব’ তুলে ধরেছেন।
এরপর ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানান, মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানকে শর্তগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে বলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য শর্তের একটি তালিকা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আল-মানার টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুবাদকের মাধ্যমে কথা বলার সময় রেজাই বলেন, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে একটি নৌ চলাচল করিডোর তৈরির বিষয়ে ইরান ও ওমান একমত হয়েছে। এই পথের কিছু অংশ ওমানের জলসীমার মধ্য দিয়ে এবং কিছু অংশ ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নিলে জাহাজগুলোকে একটি নির্ধারিত কেন্দ্রীয় নৌপথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে।
অতীতে ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে ছিল ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। তবে ইরান এবার এসব দাবি এমনভাবে সংশোধন করতে চাইছে কি না, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে একে অপরের বিরুদ্ধে মূলত কঠোর ও হুমকিমূলক বক্তব্যই বিনিময় হয়েছে। ফলে কূটনৈতিক উদ্যোগের দায়িত্ব এখন তৃতীয় পক্ষগুলোর ওপরই বেশি নির্ভর করছে।
এখন পর্যন্ত ইরান বারবার জুনের সেই সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়ার দাবি করে আসছে। ওই সমঝোতায় ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমার মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের কর্তৃত্বের বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থানের কারণে সমঝোতাটি দ্রুত ভেঙে পড়ে। সমঝোতা স্বাক্ষরের মাত্র তিন সপ্তাহ পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওই সমঝোতা স্মারক ‘শেষ হয়ে গেছে।’
বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস বা বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পরিচালনা এবং এর মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়ে ইরান ও ওমান নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে এর কিছুক্ষণ পর এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানায়, দুই দেশ এখনো চুক্তিটির বিস্তারিত বিষয় নিয়ে কাজ করছে। অর্থাৎ নীতিগত সমঝোতা হলেও এর বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা জানিয়েছেন, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী কয়েক মাস আগে হরমুজ প্রণালিতে যে সমুদ্র মাইন পেতে রেখেছিল, মার্কিন বাহিনী সেগুলো সরিয়ে দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘মূল কথা হলো, আজ আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের পথগুলো খোলা রয়েছে এবং পরিস্থিতি এগিয়ে যাওয়ার গতি তৈরি হচ্ছে।’
কুপার জানান, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে মার্কিন বাহিনী প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে সহায়তা করেছে। এসব জাহাজে প্রায় ৭৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। তবে ইরানের হামলার হুমকির কারণে অনেক জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ স্বাভাবিক সময়ের মাত্র ৫ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে মোট ‘৭০টি ঘটনা’ ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৯ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রাপোর্ট এবং স্থানীয় জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। জার্মানির সবচেয়ে ব্যস্ত এই বিমানবন্দরের বিভিন্ন জায়গায় ও ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্বে কাজ করা মোট ৬ পুরুষ কর্মী ম্যালেরিয়ায় আক্
৮ মিনিট আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া ন্যাটোর কোনো দেশে হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কা নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন। গতকাল বৃহস্পতিবার ফোনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ন্যাটো দেশগুলোর ওপর হামলা চালাবে, এ নিয়ে তাঁর কোনো দুশ্চিন্তা নেই।
১৫ মিনিট আগে
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে রাশিয়া। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপে মার্কিন স্বার্থ ও মিত্রদের বিরুদ্ধে রাশিয়া আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে নতুন মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে।
২২ মিনিট আগে
গুজরাটের আহমেদাবাদে আনা ফ্রাঙ্ক ও মালাল ইউসুফজাইয়ের বই পড়ায় পড়ুয়াদের ওপর হামলা করেছিল এক উগ্রবাদী। ছবি: সংগৃহীত
১ ঘণ্টা আগে