Ajker Patrika

রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২৩: ৪৬
রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র কয়েকজন নেতা দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে তাঁরা আটক হন।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে সংসদ ভবন চত্বরের মকর দ্বার থেকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) সদর দপ্তর নির্বাচন সদনের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। তাঁদের হাতে ছিল ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার। পরে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের কাছে পৌঁছাতে না পেরে তাঁরা আকাশবাণী ভবনের প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, প্রায় ৯ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এ সময় রাহুল, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আটক করে একটি বাসে তুলে নেওয়া হয়। কংগ্রেস সূত্র জানায়, তাঁদের উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নেওয়া হচ্ছিল। পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেস কর্মীদের ধস্তাধস্তির দৃশ্যও দেখা যায়।

বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তকে ‘একতরফা’ দাবি করে ইন্ডিয়া জোট এই আন্দোলনের আয়োজন করে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়ম হয়েছে।

আজ দুপুরেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে অল্প সময়ের জন্য পুলিশের বাসে তোলা হয়েছিল। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় মাত্র ৫০ মিটার দূরে হলেও তাঁদের সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চান বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন—জনপ্রতিনিধিরাই যদি নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে না পারেন, তাহলে গণতন্ত্রের অর্থ কী?

গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে। ছবি: এনডিটিভি
গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে। ছবি: এনডিটিভি

এদিকে সন্ধ্যায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ আরও দুই কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য চিঠি দেওয়া হয়।

রাত ৯টার দিকে নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে আগে সাক্ষাতের সময় চাইতে হয় এবং উভয় পক্ষের সম্মত সময়েই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনের দাবি, আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তারা পায়নি।

কমিশন জানায়, পরে প্রায় ২৪০ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে সংসদ ভবন অ্যানেক্সে বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কমিশনের মতে, এটি প্রচলিত প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এরপর কমিশন তার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠিয়ে সংসদ সদস্যদের স্মারকলিপি গ্রহণের প্রস্তাব দিলেও বিরোধী নেতারা তা নেননি।

কংগ্রেস জানিয়েছে, ১০ থেকে ২০ অক্টোবর ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ প্রচারাভিযান, ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশ ও ২৫-২৬ নভেম্বর ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচি পালন করা হবে। শীতকালীন অধিবেশনেও নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত বিষয়টি উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে কংগ্রেস সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত একটি মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জ্ঞানেশ কুমার ও কমিশনকে নোটিশ দিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আদালত দেননি। মামলাটির শুনানি অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত