Ajker Patrika

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রাশিয়ায় জ্বালানি পাঠানোর তথ্য ফাঁস

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২৩: ৩২
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রাশিয়ায় জ্বালানি পাঠানোর তথ্য ফাঁস
ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

ইউক্রেন যুদ্ধ চলার মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রাশিয়ায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কয়েকটি ট্যাংকারও ব্যবহার করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বন্দর নথি ও জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাই ও আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন বন্দর থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার টনের বেশি জ্বালানি (যার বেশির ভাগই ডিজেল) সাতটি ট্যাংকারে তোলা হয়। এসব জাহাজ মোট ১৪টি যাত্রায় রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের বন্দরে যায়। ব্যবহৃত সাতটি জাহাজের মধ্যে তিনটি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাংকার লায়লা (Layla) দক্ষিণ কোরিয়ার উলসান বন্দর থেকে দুবার ভ্লাদিভস্তকের উদ্দেশে যাত্রা করে। দুই দফায় জাহাজটি প্রায় ৫৭ হাজার টন ডিজেল বহন করে। আরেক নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকার অ্যাস্টরিয়া (Astoria) উলসান থেকে প্রায় ১১ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে পরে ভ্লাদিভস্তকে যায়।

আরও একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ ছংছং (Chongchon) কোনো বন্দরে ভেড়েনি। দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োসু বন্দরের কাছে সমুদ্রে সেলেস্ট (Celeste) নামের একটি জাহাজ থেকে প্রায় ২৬ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে সেটি রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। জাহাজ থেকে জাহাজে এ ধরনের পণ্য স্থানান্তরকে সাধারণত পণ্যের উৎস গোপন করার একটি পদ্ধতি হিসেবে দেখা হয়।

ফিনল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (CREA) বিশ্লেষক আইজ্যাক লেভি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাংকার দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দর থেকে জ্বালানি নিয়ে রাশিয়ায় যাওয়ার ঘটনা ‘বিস্ময়কর’। তাঁর মতে, এটি নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে এবং ইউক্রেনের প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থনকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) তথ্য অনুযায়ী, জুনে রাশিয়ার শোধনাগারগুলোর উৎপাদন ২০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায় এবং ডিজেল উৎপাদন গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়।

জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের (Kpler) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে রাশিয়া সমুদ্রপথে ৩ লাখ ৬৮ হাজার টন তেলজাত পণ্য আমদানি করে, যা আগের মাসের তুলনায় সাত গুণের বেশি। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসে ১ লাখ ১২ হাজার টন, যা মোট আমদানির প্রায় ৩১ শতাংশ।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী এসব চালান সরাসরি অবৈধ বলে মনে হচ্ছে না। দেশটি রাশিয়ার ওপর মূলত শিল্পযন্ত্র, ইলেকট্রনিকস, যানবাহনসহ নির্দিষ্ট পণ্যের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও সম্প্রসারণ করেছে এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ইউক্রেনকে মানবিক সহায়তা ও অপ্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম দিলেও সরাসরি অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে এখনো অনড়। ফলে রাশিয়ায় জ্বালানি রপ্তানির এই তথ্য পশ্চিমা দেশগুলোর রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির প্রচেষ্টায় সিউলকে সম্ভাব্য দুর্বল সংযোগ হিসেবে তুলে ধরছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত