Ajker Patrika

জিনজিয়াংয়ে ক্যাফে খোলায় স্টারবাকসকে উইঘুর নিয়ে খোঁচা, চীনের জবাব

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ৪৭
জিনজিয়াংয়ে ক্যাফে খোলায় স্টারবাকসকে উইঘুর নিয়ে খোঁচা, চীনের জবাব
চীনের জিনজিয়াংয়ে চালু করা স্টারবাকসের দুটি ক্যাফের একটি। ছবি: সংগৃহীত

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে প্রথমবারের মতো দুটি ক্যাফে চালু করায় মার্কিন কফি চেইন স্টারবাকসের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এক আইনপ্রণেতা। তাঁর অভিযোগ, উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীনা সরকারের কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যেও সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে স্টারবাকস ওই কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিচ্ছে। তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন আইনপ্রণেতাকে পাল্টা আক্রমণ করেছে বেইজিং।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট জানায়, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের চীনবিষয়ক সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান জন মুলেনার সম্প্রতি উরুমচি শহরে খোলা স্টারবাকসের দুটি ক্যাফে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কোম্পানিটির সিদ্ধান্তকে ‘নৈতিকভাবে দেউলিয়া’ বলে মন্তব্য করেন।

মুলেনার মনে করেন, সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য পরিচিত একটি কোম্পানির এমন সিদ্ধান্ত ‘হতবাক করার মতো’। তিনি বলেন, জিনজিয়াংয়ে স্টারবাকসের উপস্থিতি একটি আইকনিক মার্কিন ব্র্যান্ডকে উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নৃশংস অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করছে।

মুলেনার আরও বলেন, যে অঞ্চলে চীনা সরকার ১০ লাখের বেশি উইঘুরকে আটক করেছে এবং তাদের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে বঞ্চিত করছে, সেখানে মার্কিন কোনো কোম্পানির ব্যবসা করার ‘কোনো ন্যায্য কারণ নেই’।

তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, মার্কিন কংগ্রেসের ওই কমিটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘আজগুবি অভিযোগে’ চীনকে আক্রমণ ও হেয় করাকে অভ্যাসে পরিণত করেছে। জিনজিয়াংয়ে ‘গণহত্যা’ চলছে—এমন দাবি ‘নির্লজ্জ মিথ্যা’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিভিন্ন পশ্চিমা সরকার ও মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে জিনজিয়াংয়ে উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক শ্রম, ধর্মীয় বিধিনিষেধ, ব্যাপক আটক, পরিবার বিচ্ছিন্নকরণ ও জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ। ২০২২ সালে জাতিসংঘও জানিয়েছিল, এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।

উইঘুরদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস স্টারবাকসকে ‘ইতিহাসের সঠিক পাশে’ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মায়া ওয়াং বলেন, জিনজিয়াংয়ে স্টারবাকসের উপস্থিতি চীনা সরকারের এই বয়ানকে শক্তিশালী করে যে, ওই অঞ্চলে কোনো সমস্যা নেই।

চীনে ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে স্টারবাকস গত এপ্রিলে একটি যৌথ উদ্যোগ চূড়ান্ত করে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান নিকল তখন বলেছিলেন, স্থানীয় অভিজ্ঞতার সঙ্গে স্টারবাকসের বৈশ্বিক ব্র্যান্ডকে যুক্ত করে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো ও নতুন শহরে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।

জিনজিয়াংয়ে ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া পশ্চিমা কোম্পানি অবশ্য স্টারবাকসই প্রথম নয়। হিলটন, আইএইচজি, ম্যারিয়ট ও উইন্ডহ্যামের মতো আন্তর্জাতিক হোটেল চেইনও সেখানে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় একই ধরনের সমালোচনার মুখে পড়েছে।

চীন অবশ্য জিনজিয়াংয়ে দমন-পীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বেইজিংয়ের দাবি, অঞ্চলটিতে বর্তমানে স্থিতিশীল সমাজ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জাতিগত ঐক্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত