
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানি স্পিকার বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বের এক প্রতিনিধি দল। ইসলামাবাদে নূর খান বিমানঘাঁটিতে তাদের স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার। আলোচনার জন্য ইরানি দল পাকিস্তান পৌঁছালেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বিষয়টি এত সহজ হবে না।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রাক্কালে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে একটি ইরানি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন সদস্য গালিবাফের সঙ্গে রয়েছেন।’
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনার আগে ইরানি প্রতিনিধি দলের আগমনের কথা ঘোষণা করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বাধীন এই প্রতিনিধি দলকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির, জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।
পাকিস্তানি পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘উপপ্রধানমন্ত্রী/পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, পক্ষগুলো গঠনমূলকভাবে আলোচনায় অংশ নেবে এবং সংঘাতের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে পক্ষগুলোকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে পাকিস্তানের আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
এদিকে, বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতার উত্থাপন করা পূর্বশর্তগুলো—লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দ করা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা—আলোচনাকারীদের সামনে বিদ্যমান জটিলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পারমাণবিক ইস্যুটি সবচেয়ে বড় এবং পুরনো সমস্যা, যা ইরানের বিষয়ে পশ্চিমারা দীর্ঘদিন ধরে যে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে তার মূলে। ইরান সরকার জোর দিয়ে বলছে, তারা কখনোই পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করেনি। কিন্তু আট বছর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করা পূর্ববর্তী পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার পর থেকে ইরান বেসামরিক কর্মসূচির প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তাদের কাছে থাকা ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক—যা এখন একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ধারণা করা হয় এটি ইসফাহানের কাছে একটি স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। পাশাপাশি ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। অন্যদিকে ইরান বলছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।
এরপর রয়েছে হরমুজ প্রণালী—এই যুদ্ধের আগে এটি কোনো সমস্যা ছিল না, কিন্তু এখন এটি ইরানের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার পর ইরান এখন সামুদ্রিক চলাচলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন কিছু নিয়ম চালু করতে চায়। এর মধ্যে জাহাজ পরিদর্শন করার অধিকার, শুল্ক আরোপ করা বা প্রবেশাধিকার অস্বীকার করার মতো বিষয়গুলো থাকতে পারে।
বিশ্বের অধিকাংশ দেশ, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এটি মেনে নেওয়া অসম্ভব। সমস্যা এখানেই শেষ নয়। ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে ইরানের 'ক্ষতিকর প্রভাব' বন্ধ করতে চায়। বিপরীতে ইরান চায় তাদের ওপর থেকে সমস্ত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং গত এক মাসে যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ।
গত এক বছরে দুইবার আলোচনারত অবস্থায় আক্রান্ত হওয়ার পর, ইরান এখন গ্যারান্টি চায় যে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর হবে না। ইসলামাবাদে এই সব সমস্যার সমাধান হবে বলে কেউ প্রকৃতপক্ষে মনে করছেন না। আলোচনার আগে পরিস্থিতি যতটা নাজুক, তাতে যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াটি টিকে থাকলেই বেশিরভাগ মানুষ খুশি হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির সেনাদের লেবাননের আরও ভেতরে ঢুকে পড়ে দখল সুদৃঢ় করার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার তিনি এ নির্দেশ দেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েলের মধ্যে ছয় সপ্তাহ ধরে যুদ্ধবিরতি চলছে।
১ ঘণ্টা আগে
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার ভিত্তি হিসেবে সামরিক প্রতিরোধক্ষমতাকেই শক্তি হিসেবে দেখে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা ও কথার’ ওপর নির্ভর করার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে।
১ ঘণ্টা আগে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার করছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, টানেলের মুখ পরিষ্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের মাধ্যমে দেশটি আবারও তার দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ফিরিয়ে আনছে।
৯ ঘণ্টা আগে
মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খনির কাজের জন্য মজুত করে রাখা বিস্ফোরকের একটি গুদামে বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ৪৫ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটা এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অর্ধশতাধিক মানুষ।
১১ ঘণ্টা আগে