Ajker Patrika

মিসরের পাঠ্যক্রমে ফিলিস্তিনি শিশু দুররাহ হত্যাকাণ্ড

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৫২
মিসরের পাঠ্যক্রমে ফিলিস্তিনি শিশু দুররাহ হত্যাকাণ্ড
ইসরায়েলি সেনা ও ফিলিস্তিনিদের লড়াইয়ের মাঝে জামাল আল-দুররাহ ও তাঁর ১১ বছর বয়সী ছেলে মুহাম্মদ আল-দুররাহ। ছবি: সংগৃহীত

২০০০ সাল। বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল ফিলিস্তিনি শিশু মুহাম্মদ আল-দুররাহর মৃত্যুর ঘটনা। ২৫ বছর পর সেই ঘটনার ছবি টেলিভিশনের পর্দা থেকে জায়গা করে নিল মিসরের উচ্চমাধ্যমিকের ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ে। নতুন পাঠ্যক্রমে ২০০০ সালের দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদা (অভ্যুত্থান) নিয়ে একটি পাঠে দুররাহ হত্যাকাণ্ডের আলোচিত ছবিটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে জানা যায়, নতুন পাঠ্যক্রমে ‘দ্য সেকেন্ড প্যালেস্টাইনিয়ান ইন্তিফাদা ২০০০’ শিরোনামের পাঠে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে। পুরো একটি প্রজন্মের স্মৃতিতে থেকে যাওয়া ছবিটি শ্রেণিকক্ষে মিসরের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। ছবির সঙ্গে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘যে মুহূর্তে মুহাম্মদ আল-দুররাহকে গুলি করা হয়।’

২৫ বছর আগে ইসরায়েলের দখলদারির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা (অভ্যুত্থান) শুরু করেন ফিলিস্তিনিরা। ইন্তিফাদা চলাকালে ইসরায়েলের স্থল অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানের মাঝে একদিন ২০০০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি সেনা ও ফিলিস্তিনিদের লড়াইয়ের মাঝে পড়ে যান জামাল আল-দুররাহ। সঙ্গে ছিল তাঁর ১১ বছর বয়সী ছেলে মুহাম্মদ আল-দুররাহ।

তুমুল গোলাগুলির মাঝে ছেলেকে নিয়ে একটি কংক্রিটের সিলিন্ডারের পেছনে আশ্রয় নেন জামাল। সেই দৃশ্যটি ধারণ করেছিলেন এক সাংবাদিক, যা পরে ইতিহাসের অংশে পরিণত হয়।

টেলিভিশনের সাংবাদিকের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট্ট মুহাম্মদ বাবার পেছনে গা ঘেঁষে লুকানোর চেষ্টা করছে আর ভয়ে কাঁদছে। বাবা ছেলেকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলেন। লড়াই থামানোর আকুতিও জানান কিন্তু তাতে কোনো লাভ হলো না। কিছুক্ষণ পরই গুলি এসে লাগল মুহাম্মদের গায়ে। বাবার কোলে ঢলে পড়ল সে।

২০০৫ সালে শেষ হওয়া ওই ইন্তিফাদায় প্রাণ হারায় তিন হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে মুহাম্মদ একজন।

মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঠ্যবইয়ে ছবিটিকে ফিলিস্তিনের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং সংঘাত ও শান্তি প্রচেষ্টার বিভিন্ন পর্যায়, দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদা এবং পরবর্তী সময়ে গাজা উপত্যকায় ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সাজানো একটি ঐতিহাসিক ধারাবিবরণির অংশ হিসেবে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাঠ্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার মানবিক দিকের প্রতীক হিসেবে আল-দুররাহর ছবি অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে।

মুহাম্মদের বাবা জামাল আল-দুররাহ বলেন, পাঠ্যক্রমে তাঁর ছেলের ছবি অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের মুহাম্মদের নাম জানা বা তাঁর ছবি চিনতে পারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারবে, ইতিহাসের বইয়ে তারা যেসব ঘটনা ও তারিখ সম্পর্কে পড়ে, সেগুলোর পেছনে এমন শিশু ও বেসামরিক মানুষও ছিল, যারা ভয়-ভীতির মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছে এবং সংঘাতের মূল্য দিয়েছে।

মুহাম্মদের বাবা আশা করেন, তাঁর ছেলের গল্প ফিলিস্তিন প্রশ্নের মানবিক দিক বোঝার একটি পথ হয়ে উঠবে। যাতে ইন্তিফাদা, যুদ্ধ ও আলোচনা শিক্ষার্থীদের কাছে কেবল রাজনৈতিক ঘটনা ও তারিখ হিসেবে না আসে; বরং তারা বুঝতে পারে, এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে বাস্তব মানুষকে যেতে হয়েছে এবং এর সবচেয়ে বড় পরিণতি বহনকারীদের মধ্যে ছিল শিশু ও বেসামরিক মানুষ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত