Ajker Patrika

ইইউর সঙ্গে ‘উচ্চাভিলাষী’ নিরাপত্তা–প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাচ্ছে ভারত, স্বাক্ষর আগামী সপ্তাহে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইইউর সঙ্গে ‘উচ্চাভিলাষী’ নিরাপত্তা–প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাচ্ছে ভারত, স্বাক্ষর আগামী সপ্তাহে
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়ন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গতকাল বুধবার একটি নতুন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই অংশীদারত্বের আওতায় থাকবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা। ইইউর সর্বোচ্চ কূটনীতিক কাইয়া ক্যালাস এ তথ্য জানিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কাইয়া ক্যালাস বলেন, আগামী সপ্তাহে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়ন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার ভারত সফরের সময় এই অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই হবে। এই সফরে তারা ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁরা যৌথভাবে ১৬ তম ভারত–ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন।

কাইয়া ক্যালাস জানান, সফরের প্রস্তুতি ভালোভাবেই এগোচ্ছে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তিনি নিজেও এই সফরে নেতাদের সঙ্গে থাকবেন। এই সফরের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো একটি ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি—এফটিএ’ স্বাক্ষর, যা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

ক্যালাস ইউরোপীয় পার্লামেন্টে স্ট্রাসবুর্গে এমইপিদের (ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য) জানান, আগামী সপ্তাহে ভারত ও ইইউ একটি নতুন সমন্বিত কৌশলগত এজেন্ডা গ্রহণ করবে, যার পরিকল্পনার সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। তিনি বলেন, ইইউ ভারতের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইউরোপের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ভারতকে তিনি ‘অপরিহার্য’ বলে উল্লেখ করেন।

কাল্যাস জানান, যৌথ বিবৃতি ও এজেন্ডা প্রণয়নের সময় উভয় পক্ষই এই বিষয়টি মাথায় রেখেছে যে শীর্ষ সম্মেলনকে অবশ্যই ফলপ্রসূ হতে হবে এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। এ ছাড়া, দুই পক্ষ একটি সিকিউরিটি অব ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট বা তথ্য নিরাপত্তা চুক্তিও চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, বর্তমান বিপজ্জনক বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারত ও ইইউ একসঙ্গে কাজ করলে উভয়ই উপকৃত হতে পারে।

কাইয়া ক্যালাস বলেন, ‘যুদ্ধ, চাপ প্রয়োগ এবং অর্থনৈতিক বিভাজনের মাধ্যমে যখন নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা অভূতপূর্ব চাপে রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে ইইউ ও ভারত একে অপরের আরও কাছাকাছি আসছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, আগামী মাসে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ চতুর্থ বছরে পা দেবে। একই সঙ্গে ইউরোপ গত এক বছরে হোয়াইট হাউস থেকে আসা ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ভিত্তি নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা না করলে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন।

এমইপিদের উদ্দেশে ক্যালাস বলেন, ভারত ও ইইউকে আরও ‘উচ্চাভিলাষী অংশীদার’ হতে হবে। তিনি বলেন, ‘দুটি বড় গণতন্ত্রের পক্ষে আর দ্বিধায় থাকার সুযোগ নেই।’

আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লি সফরের সময় দুই পক্ষ একটি সমন্বিত চলাচল কাঠামো নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করতে চায়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী, মৌসুমি শ্রমিক, গবেষক এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের চলাচল সহজ করা হবে, পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া হবে, বলে জানান ক্যালাস। তিনি আরও বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় ইউরোপ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে—উন্মুক্ত সমুদ্রপথ রক্ষা, সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সব ধরনের চাপ ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সৌদি আরব-পাকিস্তানসহ ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে থাকছে যে ৮ মুসলিম দেশ

এইচএসসি পাসে অফিসার পদে কর্মী নেবে সজীব গ্রুপ

আজকের রাশিফল: প্রেমে ‘পজেসিভ’ হলে বিবাদ বাড়বে, মোবাইল-মানিব্যাগ সাবধান

ইইউর সঙ্গে ‘উচ্চাভিলাষী’ নিরাপত্তা–প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাচ্ছে ভারত, স্বাক্ষর আগামী সপ্তাহে

সিলেটের সকালটা আজ অন্যরকম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত