Ajker Patrika

মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবিতে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যুর আশঙ্কা, থাকতে পারে বাংলাদেশিও

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১৭: ২০
মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবিতে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যুর আশঙ্কা, থাকতে পারে বাংলাদেশিও
প্রতীকী ছবি

মিয়ানমারের উপকূলে দুটি বড় নৌকাডুবির ঘটনায় ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুনের শেষ দিক থেকে মিয়ানমারের উপকূলে ৫০০ জনের বেশি আরোহী বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে যেতে পারে বলে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নৌকাগুলো যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জুনের শেষ দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। এগুলোতে প্রধানত দেশটির নিপীড়িত মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্যরা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বাংলাদেশের কক্সবাজারের বিশাল শরণার্থীশিবির থেকেও যাত্রা করেছিলেন। বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে বসবাস করছেন।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উত্তর ভারত মহাসাগরে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার সময় প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিখোঁজ বা নিহত হন। ওই সময় ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা এমন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

উন্নত জীবন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার আশায় প্রতিবছরই বহু রোহিঙ্গা জরাজীর্ণ নৌকায় করে সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টা করেন। এসব নৌযাত্রার বড় অংশই পরিচালনা করে মানব পাচার ও চোরাচালান চক্র। বিবৃতিতে বলা হয়, একটি নৌকায় প্রায় ২৫০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে নৌকাটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে প্রায় ২৮০ জন আরোহী বহনকারী আরেকটি নৌকা ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াডি উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ঘটনাগুলো এবং হতাহত ব্যক্তিদের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও সম্ভাব্য এই বিপুল প্রাণহানিতে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘের সংস্থাগুলো আরও জানিয়েছে, এসব সমুদ্রযাত্রা নিয়মিত নৌচলাচলের মৌসুমের বাইরে সংঘটিত হয়েছে, যখন সমুদ্রের পরিস্থিতি সাধারণত আরও বেশি প্রতিকূল থাকে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণ ও বন্যা সমুদ্রপথে চলাচলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, যদি এই ঘটনাগুলো নিশ্চিত হয়, তাহলে চলতি বছর এ পর্যন্ত আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বা প্রাণ হারানো প্রায় ৩০০ জনের তালিকায় আরও শত শত মানুষের নাম যুক্ত হবে। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীর পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই সমাধানের অভাবের পরিণতি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

সংস্থা দুটি বলছে, মিয়ানমারে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি। পাশাপাশি বাংলাদেশের শরণার্থীশিবিরগুলোতে সীমিত সহায়তা ও সীমিত সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার খোঁজে আরও বেশি মানুষকে জীবন বাজি রেখে সমুদ্রপথে যাত্রা করতে বাধ্য করছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, মানব পাচার ও চোরাচালান চক্র মানুষের এই অসহায় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাদের শোষণ করে চলেছে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই ঝুঁকিরই আরেকটি নির্মম উদাহরণ।

আইওএম এবং ইউএনএইচসিআর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা, আশ্রয় ও সুরক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং মানব পাচার ও চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বহু বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসায় বাংলাদেশের ‘অসাধারণ উদারতার’ প্রশংসা করেছে সংস্থা দুটি। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো দূর করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত