Ajker Patrika

২০২৭ সাল নিয়ে চীনা নস্ত্রাদামুসের ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ৩৪
২০২৭ সাল নিয়ে চীনা নস্ত্রাদামুসের ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী
চীনা বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিয়াং শুয়েচিন। ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সাল ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বরাজনীতিতে ভয়াবহ অস্থিরতার পূর্বাভাস দিয়েছেন চীনা বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিয়াং শুয়েচিন। ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন পূর্বাভাসের কারণে যিনি ‘চীনের নস্ত্রাদামুস’ নামে পরিচিত। তিনি আশঙ্কা করছেন, ইরান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাত একপর্যায়ে দেশটিকে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।

পডকাস্ট উপস্থাপক জ্যাক নিলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিয়াং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক উপাদান ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, দেশজুড়ে অসন্তোষ, বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও বিচ্ছিন্ন বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

জিয়াংয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি ২০২৭ সালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে স্থলসেনা পাঠাতে হতে পারে এবং এর ফলে দেশটি দীর্ঘ সময় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে। এমনকি এই যুদ্ধ ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছেন তিনি।

এর পরিণতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় সামরিক নিয়োগব্যবস্থা বা ‘ড্রাফট’ পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন জিয়াং। এতে ১৮ বছর বয়সী তরুণদেরও সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

তিনি আরও দাবি করেন, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং ন্যাশনাল গার্ডের ভূমিকা ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক ধস যুক্ত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও স্থানীয় পর্যায়ের সশস্ত্র সংঘাত শুরু হতে পারে।

জিয়াংয়ের চতুর্থ পূর্বাভাস বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে জ্বালানি, সার ও পরিবহন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধস নামতে পারে। তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালেই প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে তেল, গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে এর প্রভাব বিভিন্ন পণ্যের দামে পড়েছে।

সবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে ‘দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধের’ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জিয়াং। তবে তাঁর ধারণায় এটি দুটি সুসংগঠিত সেনাবাহিনীর যুদ্ধ হবে না; বরং দেশজুড়ে বিক্ষোভ, দাঙ্গা, বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও স্থানীয় বিদ্রোহের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

জিয়াং আরও সতর্ক করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ‘গ্লোবালিস্ট’ ও ‘ন্যাশনালিস্ট’ শক্তির সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত