Ajker Patrika

লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ধোঁয়াশা: পাকিস্তানের দাবি নাকচ নেতানিয়াহুর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ধোঁয়াশা: পাকিস্তানের দাবি নাকচ নেতানিয়াহুর
ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে অন্তত ১৯২ জন জরুরি সেবা ও স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। ছবি: এএফপি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘সর্বত্র’ এবং ‘লেবাননসহ’ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও, ইসরায়েল তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি কোনোভাবেই লেবাননের ওপর কার্যকর হবে না।

আজ বুধবার সকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্স-এ এক পোস্টে দাবি করেন, তাঁর মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু এই ঘোষণার মাত্র চার ঘণ্টা পরেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি ইংরেজি বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে না।’

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ট্রাম্পের এই সাময়িক হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে, তবে তা কিছু নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে। শর্তগুলো হলো—ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ওই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে যুদ্ধবিরতি লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর আরও জানিয়েছে, ওয়াশিংটন জেরুজালেমকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা এই আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা চিরতরে বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে জানিয়েছে, তারা আসন্ন আলোচনার মাধ্যমে এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে অঙ্গীকারবদ্ধ, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি যৌথ লক্ষ্য।’

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ‘ইসলামাবাদ টকস’-এর মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তির পথ খোঁজা হলেও, লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে লড়াই থামার কোনো লক্ষণ নেই। ইসরায়েল এখনো দক্ষিণ লেবাননে তাদের স্থল অভিযান এবং বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে যখন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসবেন, তখন লেবানন ইস্যুটি অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিতে পারে। পাকিস্তান যেখানে ‘সর্বাত্মক’ শান্তির কথা বলছে, সেখানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ কৌশল ইরানকে একঘরে করার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শাহবাজ শরিফের ‘সব ভালো খবরের’ আশায় বিশ্ববাসী যখন বুক বাঁধছিল, তখন ইসরায়েলের এই বিবৃতি পুনরায় যুদ্ধের মেঘ ডেকে এনেছে। লেবাননে যদি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে ইরান তার মিত্র হিজবুল্লাহর পাশে দাঁড়াতে পুনরায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত