Ajker Patrika

আমাদের শিশুদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়—সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের ঘোষণা মাখোঁর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আমাদের শিশুদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়—সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের ঘোষণা মাখোঁর
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। ছবি: এএফপি

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে তাঁর সরকার দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক ভিডিও বার্তায় মাখোঁ বলেন, ‘আমাদের শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়। তাদের আবেগও বিক্রির বস্তু নয় কিংবা কোনো মার্কিন প্ল্যাটফর্ম বা চীনা অ্যালগরিদমের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার জন্য নয়।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার ১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করবে এবং হাইস্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) এই বিষয়ে এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে, পশ্চিমা বিশ্বে শিশু-কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বরে একটি যুগান্তকারী আইন পাস করে। এর মাধ্যমে দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলা নিষিদ্ধ করা হয়। ব্রিটেনও সম্প্রতি অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে এবং ১৬ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ফ্রান্সে এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট মাখোঁর দল রেনেসাঁ পার্টির সংসদ সদস্য লর মিলার। তিনি জানান, বর্তমানে কার্যকর কোনো বয়স যাচাই ব্যবস্থা নেই। যে কেউ ইচ্ছে মতো জন্মতারিখ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ করতে পারে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) কঠোরভাবে প্রয়োগ করে প্রকৃত বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করাই ফরাসি সরকারের লক্ষ্য।

মিলার স্বীকার করেন, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ সব সময়ই থাকবে। তবে শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় অন্তত প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অস্ট্রেলিয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর ৪৭ লাখের বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট (যেগুলো ১৬ বছরের কম বয়সীদের বলে ধারণা করা হয়েছিল) বন্ধ বা অপসারণ করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতাও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর মালিক ইলন মাস্ক এমন নিষেধাজ্ঞাকে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের গোপন প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি আইন মেনে চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব জগতে শিশুদের অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়া হলেও অনলাইন জগতে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়নি—এই বৈপরীত্যই এখন নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বিশ্বকে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত