Ajker Patrika

রেকর্ড ভাঙা গরমে বাড়ির বাইরে কাজে মানা দক্ষিণ কোরিয়ায়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
রেকর্ড ভাঙা গরমে বাড়ির বাইরে কাজে মানা দক্ষিণ কোরিয়ায়

রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়াংসান শহরে রোববার তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ১৯০৪ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরুর পর এটিই দেশটিতে নথিভুক্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে কোরিয়া মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (কেএমএ)।

সোমবার (৩ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানায়, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে কোরীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ‘অবিলম্বে সব ধরনের বাইরের কার্যক্রম বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এয়ার কন্ডিশনারবিহীন ঘরের ভেতরেও অবস্থান করা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

ইয়াংসানে টানা পঞ্চম দিনের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। দেশটির আরও কয়েকটি শহরেও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁই-ছুঁই করছে। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমল, ক্যাফে ও অন্যান্য স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। রাজধানী সিউলে কোথাও কোথাও পথচারীদের স্বস্তি দিতে পানির বাষ্প ছড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

২৭ বছর বয়সী অফিসকর্মী জু ডং-ইওল বাবা-মাকে নিয়ে সিউলের একটি ক্যাফেতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, বাইরে গিয়ে কিছু করার কথা ভাবাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়ি, শপিংমল ও ক্যাফের মতো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গায় থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছেন না তিনি।

সিউল থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত গিয়ংজু শহরেও রোববার তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদিকে উত্তর কোরিয়ার কয়েকটি এলাকাতেও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে টানা এক সপ্তাহ ধরে রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির নিচে নামেনি।

রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০ টির বেশি এলাকায় জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে দ্রুত শীতল স্থানে চলে যেতে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে এবং বিশ্রাম নিতে পরামর্শ দিয়েছে কেএমএ।

তীব্র গরমে মানুষের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসনকে নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী হান সিয়ং-সুক। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে খেলাধুলাতেও। চ্যাংওনে তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পর দক্ষিণ কোরিয়ার পেশাদার বেসবল লিগের একটি ম্যাচ বাতিল করা হয়। শহরটিতে এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচ বাতিল হলো।

কেএমএর তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বছরে গড়ে তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যা বেড়ে ১৯-এ দাঁড়িয়েছে, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে। এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বাড়ানো প্রাকৃতিক জলবায়ুপ্রবাহ এল নিনোর প্রত্যাবর্তনও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত