Ajker Patrika

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন করছে ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০২ মে ২০২৬, ২৩: ২৪
হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন করছে ইরান
ইরান যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানির ২০ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন আইন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজি-বাবাই জানিয়েছেন, এই নতুন আইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে ইসরায়েলি জাহাজসহ শত্রুদেশের যেকোনো নৌযানের চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে।

পার্লামেন্টে উত্থাপিত এই খসড়া বিল অনুযায়ী, কেবল শত্রুদেশের জাহাজই নয়, বরং ইরান যেসব দেশকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের যেকোনো বাণিজ্যিক বা সামরিক জাহাজের জন্য এই পথ বন্ধ থাকবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে বা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে অন্য দেশের জাহাজগুলো ইরানের অনুমতি ও অনুমোদন সাপেক্ষে এই রুট দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।

নতুন এই আইনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক হলো—

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ: বিলটিতে প্রস্তাব করা হয়েছে, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বা যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত, তাদের জাহাজগুলো যদি এই পথ ব্যবহার করতে চায়, তবে তাদের ইরানকে ‘যুদ্ধক্ষতিপূরণ’ দিতে হবে।

নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব: ইরান সরকার এই আইন পাস করে হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। পাশাপাশি, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে টোল বা ফি আদায় করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ইরানের ‘পারস্য উপসাগর পুনর্গঠন ও উন্নয়ন তহবিলে’ জমা হবে।

পরিবর্তিত পরিস্থিতি: ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের যে স্বাভাবিক অবস্থা ছিল, ভবিষ্যতে তা আর ফিরে আসবে না। তারা এই জলপথকে এখন তাদের কৌশলগত নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও চলাচল ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ইরান এই প্রণালিকে এখন তাদের ‘কৌশলগত সম্পদ’ হিসেবে অভিহিত করছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মার্কিন অবরোধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আইন ইরানকে তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানে আরও শক্তিশালী করার একটি কৌশল।

এর আগে পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি এই ‘হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ অনুমোদন করেছে। এখন এটি পার্লামেন্টের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভোটাভুটি এবং পরবর্তীতে গার্ডিয়ান কাউন্সিল অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনটি চূড়ান্ত হলে তা বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত