Ajker Patrika

অ্যাক্সিওসের-প্রতিবেদন /ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের যুদ্ধের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই সম্ভাব্য যুদ্ধ খুব দ্রুতই শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বলছে, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হলে তা ভেনেজুয়েলার মতো নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হবে না, বরং এটি হবে কয়েক সপ্তাহব্যাপী এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সামরিক অভিযানটি হবে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি যৌথ অভিযান। এর পরিধি গত বছরের জুনের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের চেয়েও অনেক বড় হবে এবং ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর টিকে থাকার জন্য এটি হবে চরম এক অস্তিত্বের লড়াই।

এই যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক নাটকীয় প্রভাব ফেলবে এবং ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি তিন বছরের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব থাকবে। তবে কংগ্রেস এবং জনসাধারণের মনোযোগ অন্যদিকে থাকায়, মধ্যপ্রাচ্যে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে তেমন আলোচনা বা বিতর্ক হচ্ছে খুবই কম।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ইরানি শাসকগোষ্ঠী একটি বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালায়। ওই বিক্ষোভে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার ঘটনায় তখনই ইরানে হামলার কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই সুযোগটি হাতছাড়া হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করে—একদিকে পারমাণবিক আলোচনা জারি থাকে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাড়তে থাকে সামরিক উপস্থিতি।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না হয় তাহলে এবারের অভিযানটি হতে পারে ভয়াবহ। আর বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, চুক্তির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। ফলে যুদ্ধের সম্ভাবনাই বেশি।

আজ মঙ্গলবার জেনেভায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন। উভয় পক্ষ আলোচনায় ‘অগ্রগতি’র কথা বললেও এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে। জানা গেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা এই মতপার্থক্য দূর করার ব্যাপারেও আশাবাদী নন।

এর মধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স আজ ফক্স নিউজকে বলেছেন, আলোচনা কিছু দিক থেকে ভালো হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছু ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ইরানিরা এখনো সেগুলো মানতে বা তা নিয়ে কাজ করতে রাজি হয়নি। কিন্তু এবারের আলোচনায় কোনো ফল না আসা মানে সব ধরনের কূটনৈতিক পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের যুদ্ধবহরে যুক্ত হয়েছে দুটি বিমানবাহী রণতরী, এক ডজন যুদ্ধজাহাজ, শত শত যুদ্ধবিমান এবং একাধিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে কিছু যুদ্ধ সরঞ্জাম এখনো পৌঁছানোর পথে। ১৫০টিরও বেশি মার্কিন সামরিক কার্গো ফ্লাইট অস্ত্র ও গোলাবারুদ মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫০টি যুদ্ধবিমান (এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬) ওই অঞ্চলের দিকে রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্প কি আবার পিছু হটবেন

ইরানের সঙ্গে এই অচলাবস্থা এত দীর্ঘ সময় ধরে চলছে যে অনেক আমেরিকান এর প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ অনেকের ধারণার চেয়েও আগে এবং অনেক বড় আকারে শুরু হতে পারে। ট্রাম্প যেভাবে সামরিক ও বাগাড়ম্বরপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছেন, তাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ছাড় না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর পক্ষে পিছু হঠা কঠিন হবে। তাঁর উপদেষ্টারা মনে করেন না যে এত বিপুল যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করা কেবল একটি ‘ধাপ্পাবাজি’। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে, তবে আলোচনার ব্যর্থতা সরাসরি হামলারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কত দেরি আর

ইসরায়েলি সরকার ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পাশাপাশি সেখানে ‘শাসক পরিবর্তন’-এর চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা।

তবে কিছু মার্কিন সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, হামলা হতে এখনো কয়েক সপ্তাহ দেরি হতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা ভিন্নমত পোষণ করে বলেছেন, ‘বস (ট্রাম্প) বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। তাঁর আশপাশের কেউ কেউ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করলেও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরাসরি সামরিক অ্যাকশন দেখার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ।’

গত বছরের ১৯ জুন হোয়াইট হাউস ট্রাম্পকে আলোচনা বা হামলা, এই দুইয়ের যেকোনো মধ্যে একটি বেছে নিতে দুই সপ্তাহের সময় দিয়েছিল। এর ঠিক তিন দিন পরেই তিনি ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ শুরু করেছিলেন। এবার গত বছরের ১৯ জুন হোয়াইট হাউস ট্রাম্পকে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া বা হামলার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। তিন দিন পরই তিনি ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ শুরু করেন।

এবারও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতির কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই। ফলে যুদ্ধ আসন্ন—এমন ইঙ্গিত ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে, আর আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিণতি হতে পারে বয়াবহ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত