Ajker Patrika

পর্বতশৃঙ্গে প্রেমিকার মৃত্যু, বিচারের মুখোমুখি পর্বতারোহী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
পর্বতশৃঙ্গে প্রেমিকার মৃত্যু, বিচারের মুখোমুখি পর্বতারোহী
ওয়েবক্যাম ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে প্রেমিক থমাস পাহাড়ের চূড়া থেকে টর্চলাইট হাতে নামছেন। ছবি: বিবিসি

অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ গ্রসগ্লকনার-এ এক তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত একটি বিচার। এক বছরেরও বেশি সময় আগে ৩৩ বছর বয়সী কার্স্টিন তীব্র ঠান্ডায় হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অভিযোগ ওঠে, তাঁর প্রেমিক থমাস ঝোড়ো আবহাওয়ার মধ্যে তাঁকে পর্বত চূড়ার কাছে অসুরক্ষিত ও ক্লান্ত অবস্থায় রেখে সাহায্য আনতে যান। রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ‘চরম অবহেলাজনিত হত্যার’ অভিযোগ এনেছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিবিসি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ৩ হাজার ৭৯৮ মিটার উচ্চতার গ্রসগ্লকনার পর্বতে আরোহণ শুরু করেন ওই যুগল। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, থমাস ছিলেন বেশি অভিজ্ঞ এবং ভ্রমণের পরিকল্পনাটা তিনিই করেছিলেন। কার্স্টিনকে গাইড করে তিনিই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

শীতকালীন প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও এবং কার্স্টিন এমন উচ্চতা ও কঠিন আলপাইন অভিযানে অনভিজ্ঞ হলেও থমাস এই অভিযান শুরু করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়—প্রচলিত ও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা দেরিতে তাঁরা রওনা দিয়েছিলেন। তাঁদের কাছে জরুরি ‘বেভুয়াক সরঞ্জাম’ (খোলা আকাশে রাত কাটানোর মতো সরঞ্জাম) যথেষ্ট ছিল না। এমনকি উঁচু অঞ্চলের জন্য উপযুক্ত জুতা না নিয়ে তাঁরা স্নোবোর্ডের সফট বুট ব্যবহার করছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের মতে, ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার বেগের দমকা হাওয়া ও মাইনাস ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (অনুভূত মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় তাঁদের ফিরে আসা উচিত ছিল। রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তাঁরা বিপদে পড়েন। অভিযোগ আছে, রাত ১০টা ৫০ মিনিটে পুলিশের হেলিকপ্টার তাঁদের ওপর দিয়ে উড়ে গেলেও কোনো বিপদ সংকেত পাঠানো হয়নি। তবে থমাসের আইনজীবী বলেছেন, তাঁরা দুজন তখনো নিজদের সক্ষম মনে করছিলেন এবং শীর্ষচূড়ার খুব কাছে ছিলেন।

১৯ জানুয়ারি রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে থমাস পর্বত পুলিশকে ফোন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, থমাস ফোন সাইলেন্ট করে আর সাড়া দেননি।

থমাসের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী—থমাস ও কার্স্টিন শীর্ষচূড়া থেকে প্রায় ৪০ মিটার নিচে পৌঁছেছিলেন। এ সময় কার্স্টিন চলতে অক্ষম হলে থমাস শীর্ষে উঠে অপর পাশ দিয়ে নেমে সাহায্য আনতে যান। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, রাত ২টার দিকে এমন বিরুদ্ধ পরিবেশে সঙ্গীকে একা রেখে যান থমাস। আর জরুরি সেবাকে জানান ৩টা ৩০ মিনিটে। কিন্তু প্রবল বাতাসে সেদিন রাতে হেলিকপ্টারে উদ্ধার অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বরফাচ্ছাদিত ঢালে একাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কার্স্টিন। দোষী সাব্যস্ত হলে থমাস সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন। রায়টি শুধু এই মামলাই নয়, ভবিষ্যতে পর্বতারোহীদের সঙ্গীর প্রতি আইনি দায় কতটা—তা নিয়েও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে অস্ট্রিয়ার দৈনিক ডের স্ট্যান্ডার্ড মন্তব্য করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত