Ajker Patrika

ট্রাম্প কেন পিছু হটলেন, হামলা স্থগিতের ঘোষণায় যেসব প্রশ্নের উত্তর নেই

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৮: ১৫
ট্রাম্প কেন পিছু হটলেন, হামলা স্থগিতের ঘোষণায় যেসব প্রশ্নের উত্তর নেই
ফাইল ছবি

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের চরম উত্তেজনা এবং যুদ্ধের আশঙ্কার পর অবশেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বরফ গলার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের একটি ‘সম্পূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের’ লক্ষ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনার প্রতি সদিচ্ছা প্রকাশ করতে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে পূর্বনির্ধারিত সমস্ত সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ সব বড় হাতের অক্ষরে দেওয়া একটি পোস্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত দুই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আমাদের শত্রুতার অবসান ঘটানোর বিষয়ে অত্যন্ত গভীর ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে আমি প্রতিরক্ষা বিভাগকে আগামী ৫ দিন কোনো সামরিক হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছি।’

এই আকস্মিক নমনীয়তার কারণ কী?

গত সপ্তাহান্তে যেখানে দুই পক্ষই একে অপরকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল, সেখানে ট্রাম্পের এই সুর পরিবর্তন বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে। কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কী এমন প্রস্তাব ইরান দিয়েছে যার ফলে ট্রাম্প তাঁর অবস্থান থেকে সরে এলেন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:

১. হরমুজ প্রণালি: ইরান হয়তো বিশ্ববাজারের কথা চিন্তা করে এই কৌশলগত পথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রাথমিক ইঙ্গিত দিয়েছে।

২. নিউক্লিয়ার সমঝোতা: পর্দার আড়ালে নতুন কোনো পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাব থাকতে পারে।

৩. অভ্যন্তরীণ চাপ: যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বড় ধরনের যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা ট্রাম্পকে ভাবিয়ে তুলতে পারে।

ইরানের নীরবতা ও বিশ্ববাসীর সংশয়

ট্রাম্প ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার দাবি করলেও, ইরান এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বরং কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন। ফলে ট্রাম্পের এই ঘোষণা কেবল একপক্ষীয় কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা বার্ন্ড ডেবসম্যান জুনিয়র বিবিসিকে বলেন, ‘ট্রাম্পের এই বার্তাটি “অপারেশন এপিক ফিউরি” শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে নমনীয় হলেও অনেক প্রশ্ন এখনো উত্তরহীন। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চয়তা না আসায় এই পাঁচ দিনের বিরতি আসলে কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।’

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তারা এটি সহজে হাতছাড়া করবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই পাঁচ দিনের আলটিমেটাম শেষে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল না আসে, তবে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপাতত পুরো বিশ্বের নজর এখন মেম্ফিসে ট্রাম্পের আসন্ন ভাষণের দিকে, যেখানে তিনি এই গোপন আলোচনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত