
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান সংকট নিরসনে আকস্মিক পাঁচ দিন হামলা স্থগিতের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের এই নমনীয় সিদ্ধান্তকে ‘কৌশলগত আত্মসমর্পণ’ হিসেবে অভিহিত করে ইরানের ভেতরে নতুন দফায় বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে পাওয়া সংবাদ অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস যখন ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার কথা প্রচার করছে, ঠিক তখনই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা শুরু করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও, সামরিক বিশ্লেষকেরা এটিকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ‘সশস্ত্র প্রতিবাদ’ হিসেবে দেখছেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ইসরায়েল আশঙ্কা করছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো অসময়ে বা উপযুক্ত সময়ের আগেই এই সংঘাতের অবসান ঘটাবেন। তাদের মতে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তবে সেটি হবে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের জন্য এক ভয়াবহ পরাজয়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরায়েল ব্রডকাস্টিং অথোরিটি’র (আইবিএ) বরাতে জানা গেছে, দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধ বন্ধ করা মানে ইরান ও হিজবুল্লাহকে নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ করে দেওয়া।
ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একাধিপত্য বজায় রেখে যেকোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা হবে ‘কৌশলগত আত্মসমর্পণ’। তাঁরা বিশ্বাস করেন, ইরানকে পূর্ণরূপে পরাস্ত না করে এবং তাদের জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস না করে আলোচনার টেবিলে বসা মানে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বিপন্ন করা।
এখন ইসরায়েলি সরকার এবং ওয়াশিংটনে থাকা তাদের লবিস্টরা ট্রাম্পকে এই পাঁচ দিনের হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনতে সর্বাত্মক চাপ প্রয়োগ করবেন। তাঁদের লক্ষ্য হলো ট্রাম্পকে বোঝানো, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র গতি থামিয়ে দিলে তেহরান পুনরায় তাদের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি জোরদার করবে।
একদিকে ট্রাম্পের পাঁচ দিনের আলটিমেটাম এবং অন্যদিকে ইরানের ভেতরে ইসরায়েলের লাগাতার বিমান হামলা—এই দুই বিপরীতমুখী ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে ট্রাম্পের এই তথাকথিত ‘শান্তি আলোচনা’ ইসরায়েলি বাধার মুখে কতক্ষণ টিকে থাকতে পারে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ইসরায়েল তাদের আক্রমণ অব্যাহত রাখে, তবে ইরানও ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি প্রতিশোধমূলক হামলায় জড়িয়ে পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যম

পারস্য উপসাগরে চলমান সংঘাত নিরসনে এক নাটকীয় দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরানই আগে আলোচনার জন্য তাঁকে ফোনকল করেছে। দুই দেশের মধ্যে অনেকগুলো বিষয়ে ‘প্রধান ঐকমত্য’ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করলেও, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বর্তমান...
১২ মিনিট আগে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোকে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন লিবিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সাদিক আল-ঘারিয়ানি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আরব দেশগুলোতে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি কেবল অস্থিরতাই বয়ে এনেছে।
২৬ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মার্কিন হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, হরমুজ প্রণালির পুনরায় খোলার বিষয়ে আলোচনায় ‘উন্নতি’ হয়েছে। এটি সরাসরি কোনো আলোচনা ছিল না। তবে মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে...
২৯ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে কি না—এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও পরস্পরবিরোধী তথ্য সামনে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করার পর ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছে।
২ ঘণ্টা আগে