
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে ‘অনেক দেশ’ যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। তবে কোন কোন দেশ এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। যদিও এরই মধ্যে ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা হরমুজে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। আর যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা অনেকগুলো বিকল্প বিবেচনা করছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ১৫তম দিনেও বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে।
গতকাল শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, বিশেষ করে সেসব দেশ, যারা ইরানের এই প্রণালি বন্ধের প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একত্রে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে, যাতে প্রণালিটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা যায়।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্য এই উদ্যোগে অবদান রাখবে।
সেই পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন—যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতার শতভাগ ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, তেহরান এখনো এই জলপথে ‘একটি বা দুটি ড্রোন পাঠাতে, মাইন ফেলতে বা স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে’ সক্ষম।
তিনি অঙ্গীকার করেন, এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র উপকূলীয় অঞ্চলে ‘তীব্র বোমা বর্ষণ করবে এবং সাগরে থাকা ইরানি নৌকা ও জাহাজগুলোকে অনবরত ডুবিয়ে দেবে।’ তিনি এই পথটিকে ‘উন্মুক্ত, নিরাপদ এবং মুক্ত’ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলী রেজা তাংসিরি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এখনো সামরিকভাবে বন্ধ করা হয়নি, এটি কেবল (আমাদের) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘আমেরিকানরা মিথ্যা দাবি করেছিল যে তারা ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করেছে। এরপর তারা মিথ্যা দাবি করেছিল যে তারা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর এখন তারা অন্যদের কাছে সাহায্যকারী বাহিনী চাইছে।’
পরে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘বিশ্বের যে দেশগুলো হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পায়, তাদের অবশ্যই এই পথটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, আর আমরা তাদের—প্রচুর সাহায্য করব!’
এদিকে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফরাসি নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এই খবর সঠিক নয়।
এক্স হ্যান্ডলে পোস্টে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘না। বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে রয়ে গেছে। ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত: প্রতিরক্ষামূলক, প্রতিরক্ষামূলক।’
অপর দিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করছে।

দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছিল ম্যধপ্রাচ্যের দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই প্রচেষ্টা নাকচ করে দিয়েছে।
৬ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি)-এর চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যেসব সম্প্রচার মাধ্যম ‘ভুয়া খবর’ বা সংবাদ বিকৃতির সঙ্গে জড়িত, তাদের লাইসেন্স নবায়নের আগে নিজেদের শুধরে নেওয়ার এটাই শেষ সুযোগ।
১ ঘণ্টা আগে
শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন একটি গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স ফিলিপ সাংমা নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশে সহায়তা করেছিলেন।
২ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের খারগ দ্বীপ তেল রপ্তানি কেন্দ্রে আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে, হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত রাখতে মিত্রদেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে তেহরানও তাদের পাল্টা জবাব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে।
৩ ঘণ্টা আগে