Ajker Patrika

চালক ও সামনের যাত্রীরা বাস থেকে নেমে হঠাৎ দৌড়াতে থাকেন: নেপাল থেকে বেঁচে ফেরা মার্কিন নারী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
চালক ও সামনের যাত্রীরা বাস থেকে নেমে হঠাৎ দৌড়াতে থাকেন: নেপাল থেকে বেঁচে ফেরা মার্কিন নারী
ছবি: এএফপি

কৈশোর থেকেই নেপালের মাউন্ট কৈলাসে এক আধ্যাত্মিক যাত্রার স্বপ্ন দেখতেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দুই সন্তানের মা অঞ্জনা রাজা। চলতি মাসে স্বামী পট্টবীরামন ভেঙ্কটেশনের সঙ্গে অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে নেপালে যান তিনি। কিন্তু গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা তাঁদের সেই যাত্রাকে পরিণত করে জীবন বাঁচানোর এক লড়াইয়ে।

মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজকে অঞ্জনা জানান, সেদিন চীনা সীমান্তের দিকে একটি বাসে করে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাসের চালক ও সামনের কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে দৌড়াতে শুরু করেন। এ সময় অঞ্জনা তাকিয়ে দেখেন, বিশাল এক কাদামাটির স্রোত তাঁদের বাসের দিকে ধেয়ে আসছে।

অঞ্জনা বলেন, ‘পানি আর কাদামাটির মিশ্রণটি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট উঁচু ছিল। সাপের মতো দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। মনে হচ্ছিল, কোবরা সাপ ফণা তুলে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’

পরিস্থিতি বুঝতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি অঞ্জনা। স্বামীর কলার ধরে তাঁকে বাস থেকে বেরিয়ে দৌড়ানোর জন্য বলেন। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, এখনই বাস থেকে বের হও, না হলে আমরা মারা যাব।’

অঞ্জনা, তাঁর স্বামী ও অন্য যাত্রীরা বাসের পাশের একটি ক্যাম্পের দিকে ছুটে গিয়ে সেখান থেকে আরও উঁচু জায়গায় ওঠার চেষ্টা করেন। চারদিকে তখন কাদা-পানি। কোনো পথপ্রদর্শক ছিল না। পাথর পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় উঠতেও হচ্ছিল অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু প্রাণপণে দৌড়েছি। কোন দিকে যাচ্ছি, তা-ও জানতাম না। পাথরের ওপর দিয়ে উঠছিলাম, সবকিছু পিচ্ছিল ছিল। শুধু জীবন বাঁচানোর জন্য দৌড়েছি।’

ক্যাম্পের দ্বিতীয় স্তরে পৌঁছানোর পর অঞ্জনা দেখেন, বন্যার পানি তাদের বাসটিকেও ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাঁরা ক্যাম্পের তৃতীয় স্তরে উঠে নিরাপদে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তারা দেখেন, প্রচণ্ড গর্জনে পানির স্রোত বাস, এসইউভি, বিভিন্ন বস্তু এমনকি মানুষকেও ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) পর্যন্ত নেপাল ও চীনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে প্রলয়ংকরী এই বন্যায় ৭৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

পরবর্তীতে অঞ্জনা ও তাঁর স্বামী ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা চিকিৎসক মেয়ে আমান্ডার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকারীদের মানবিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিক ও আবেগগতভাবে আরও শক্ত করেছে বলে মনে করেন অঞ্জনা। তবে এত কিছুর পরও মাউন্ট কৈলাসের যাত্রা শেষ করার ব্যাপারে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘আমি এটা করবই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত