
গতানুগতিক সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানের সরকার পতনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবার সেখানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথ বেছে নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন তাঁর সাবেক কাউন্টারটেররিজম উপদেষ্টা জো কেন্ট। মার্কিন পডকাস্টার টাকার কার্লসনের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের দাবি না মানলে ‘এক রাতের মধ্যে ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে’। এরপর থেকে তিনি বারবার একই ধরনের হুমকি দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী তেহরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে পারে বলেও হুমকি দিয়েছেন।
গত ২৮ আগস্টে প্রকাশিত টাকার কার্লসনের শোতে জো কেন্ট পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের এই বিকল্পকে একটি ‘বাস্তবসম্মত আশঙ্কা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি যে ঘটতে পারে না, তা ভাবা বোকামি হবে। বিশেষ করে যখন ট্রাম্প প্রশাসন এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে।’
জো কেন্ট উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহারের পরেও ইরান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প তাঁর লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। ওয়াশিংটন যদি এখনো ইরানি নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং তাদের ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ করাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকে, তবে ট্রাম্পের হাতে দুটি মাত্র পথ খোলা রয়েছে—একটি হলো পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান, আর অন্যটি পারমাণবিক হামলা।
ইরানের বিশাল ভূখণ্ড এবং জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করে প্রথম বিকল্পটি (স্থল অভিযান) কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করেন কেন্ট। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত করেন, তবে অতি দ্রুতই গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবেন।’
কেন্টের অনুমান, ওয়াশিংটন হয়তো ইরানের পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে একটি সীমিত পারমাণবিক হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
পেন্টাগনের নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে—সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পরেই ইরানের ওপর একের পর এক বিমান হামলা হঠাৎ স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা গোলাবারুদের ঘাটতির এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন, পেন্টাগনের পর্যাপ্ত রসদ মজুত রয়েছে।
তা সত্ত্বেও কৌশলে দৃশ্যমান পরিবর্তন এনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করার কথা ঘোষণা করেন। এটিকে তিনি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এর কয়েক দিন পরেই (২৪ আগস্ট) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তেহরানের ওপর নতুন করে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। এতে চীনের ২১টি প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০টি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমুদ্রগামী নৌযানকে (ভেসেল) লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ওই দিন অর্থ মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, তেহরানকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো এই একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার প্রতিটি অর্থনৈতিক উপায় ও রুট বিচ্ছিন্ন করা, যতক্ষণ না তেহরান পুরোপুরি একা হয়ে পড়ে।’ একই সঙ্গে তিনি ইরানের কাছ থেকে তেল কেনা এবং কোনো প্রকার ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত রাখার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
তথ্যসূত্র: আরটি

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন এক স্কুলশিক্ষক। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) প্রলয়ংকরী বন্যার মধ্যে দেশটির উত্তর-মধ্যাঞ্চলের ত্রিশূলী উপত্যকায় এই ঘটনা ঘটে।
১ ঘণ্টা আগে
ঘটনার দিন (২৬ আগস্ট) ৩৪ বছর বয়সী ট্রাকচালক প্রমোদ বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে ফোনে সর্বশেষ কথা বলেন তাঁর ২৫ বছর বয়সী স্ত্রী সুমিত্রার সঙ্গে। নিয়মিত কথোপকথন শেষ করার আগে সুমিত্রা হঠাৎ তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ এরপর আর স্ত্রীর কোনো খোঁজ পাননি প্রমোদ।
১ ঘণ্টা আগে
নেপালে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার দুই দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচ বছরের এক শিশুকে। অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া মনীষা অবশেষে হাসপাতালে তাঁর মা-বাবার সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
কৈশোর থেকেই নেপালের মাউন্ট কৈলাসে এক আধ্যাত্মিক যাত্রার স্বপ্ন দেখতেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দুই সন্তানের মা অঞ্জনা রাজা। চলতি মাসে স্বামী পট্টবীরামন ভেঙ্কটেশনের সঙ্গে অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে নেপালে যান তিনি।
২ ঘণ্টা আগে