Ajker Patrika

‘ভালো আলোচনার’ মধ্যেই ইরানকে ট্রাম্প বললেন—হরমুজ খুলে দাও, নইলে খুব মারব

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৫১
‘ভালো আলোচনার’ মধ্যেই ইরানকে ট্রাম্প বললেন—হরমুজ খুলে দাও, নইলে খুব মারব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গতকাল মঙ্গলবার দিনভর ইরানের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের ‘খুবই ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাত শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে। তবে একইসঙ্গে হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, হরমুজ খুলে না দিলে ইরানকে ‘খুব মার দেওয়া হবে।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সে খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘তারা সারাদিন আলোচনা করেছে।’ তিনি আরও বলেন, “হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে যাবে। তবে তারা (ইরান) যদি আবার পিছিয়ে যায়, তাহলে তাদের খুব মার দেওয়া হবে।’

তেহরান কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে ব্যাপক হামলা চালানোর হুমকি ট্রাম্প বহুবার দিয়েছেন। পরে তিনি আলোচনায় অগ্রগতির কথাও বলেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব আলোচনা শত্রুতা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অপর মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুই আঞ্চলিক সূত্র এবং এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ ক্ষেত্রে জলপথটির একটি অংশের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওমানও সম্মতি দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বুধবারই এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি অবহিত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি বিলম্বিত হবে, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে হুমকি দিতে থাকবে।’

যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিলেন, সেগুলোর কোনোটি এখনো অর্জন করতে পারেননি। এসব লক্ষ্যের মধ্যে ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেস্তে দেওয়া, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা সীমিত করা এবং ইরানিদের জন্য তাদের ধর্মীয় শাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা। ইরান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে অধিকাংশ নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচল ও বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে।

এর আগে কাতারও বলেছিল, সংঘাতের অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতাকারীরা অগ্রগতি অর্জন করছেন। এর আগে অবশ্য তেহরান আলোচনা চলছে বলে অস্বীকার করেছিল। মঙ্গলবার এক ফোনালাপে ট্রাম্প ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মতপার্থক্য কমানোর প্রচেষ্টা এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতার সম্ভাবনা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। কাতারের আমিরের দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাঈ বলেছেন, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক এবং তা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ কথা জানিয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ নৌপথ প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে তিনি জানান, যে পথ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য ইরান ও ওমান উভয়ের সার্বভৌম অধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

দীর্ঘদিন ধরে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছে। তেহরানের বক্তব্য, বিপরীত তীরে থাকা ওমানের সঙ্গে তাদের এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগি করা উচিত। তবে গত সপ্তাহে ওমান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে যৌথ তদারকির পাশাপাশি জাহাজগুলো থেকে স্বেচ্ছামূলক ফি আদায়ের সুযোগ রাখা হয়েছিল, তা তেহরান প্রত্যাখ্যান করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত