Ajker Patrika

১৮ মার্কিন সেনার মৃত্যু পরও ইরান যুদ্ধকে ‘তুচ্ছ বিষয়’ বলছেন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ১৯
১৮ মার্কিন সেনার মৃত্যু পরও ইরান যুদ্ধকে ‘তুচ্ছ বিষয়’ বলছেন ট্রাম্প
ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

ইরানের সঙ্গে গত ছয় মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাতকে অত্যন্ত ‘তুচ্ছ বিষয়’ আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ১৮ মার্কিন সেনার প্রাণহানি হয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি একে পূর্ণাঙ্গ ‘যুদ্ধ’ হিসেবে মানতে নারাজ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকে একে যুদ্ধ বলতে চান না। আমি একে একটি সামরিক সংঘাত বলি, কারণ এটি আমাদের জন্য খুবই তুচ্ছ একটি বিষয়। এটি বড় কোনো ব্যাপার নয়।’

এর আগের দিন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চলা এই সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলা ঠিক হবে না। কারণ প্রধান সামরিক অভিযানগুলো মাসখানেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। ভাইস প্রেসিডেন্টের সেই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এখন আর আগের মতো নিয়মিত নয়। এখন মার্কিন বাহিনী মাঝে মাঝে সেখানে হামলা চালাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলব, এটি একটি সাময়িক প্রক্রিয়া। আপনারা জানেন, আমরা এখন বিরতি দিয়ে হামলা চালাই। সত্য কথা হলো, বর্তমানে আমরা কিন্তু লড়াই করছি না। এখন কোনো সরাসরি যুদ্ধ চলছে না।’

তবে চলতি সপ্তাহেই সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাতে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশের এলাকায় তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার সিস্টেম, নৌঘাঁটি এবং যোগাযোগ কেন্দ্রসহ প্রায় ৬০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে জোরালো হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে পারাপার করছে।

হোয়াইট হাউস ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা এখন কেবল সামরিক অভিযানের ওপর নির্ভর না করে অর্থনৈতিকভাবে ইরানকে কোণঠাসা করার নীতিতে জোর দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের বাণিজ্যিক সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে তেহরানের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জীবনরেখা বা লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত চীনের ওপর কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া থেকে এখনো বিরত রয়েছে ওয়াশিংটন।

চলতি মাসেই চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিন পিংকে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণের পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। চীন থেকে ইরানকে সাহায্য করার বিষয়টিও তিনি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ‘তারা প্রকৃতপক্ষে এই সংঘাতে জড়িত নয়। এখানে চীনের ভূমিকা খুবই সামান্য। অথচ চীন চাইলে এতে বড় ভূমিকা রাখতে পারত।’

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন পথ ও বিকল্প পাইপলাইনের ওপর জোর দেন ট্রাম্প। সিরিয়ার ভেতর দিয়ে বিকল্প স্থলপথের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত তারা (ইরান) এই জটিল প্রণালিটি নিয়ে পড়ে থাকবে, যার হয়তো আর কোনো প্রয়োজনই থাকবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, খুব শিগগিরই তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে। ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতের এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে আঘাত হানতে পারি।’

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় একটি অংশ ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতের এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় স্থানান্তরিত করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত