Ajker Patrika

বন্দর রক্ষায় মোতায়েন বাহিনীর ৮০ শতাংশেরই অস্তিত্ব নেই, সৌদি-মার্কিন ‘ভুলেই’ হুতিদের জয়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ০৭
বন্দর রক্ষায় মোতায়েন বাহিনীর ৮০ শতাংশেরই অস্তিত্ব নেই, সৌদি-মার্কিন ‘ভুলেই’ হুতিদের জয়
ইয়েমেনের লোহিতসাগরের তীরবর্তী বন্দর নগরী মোখায় হুতিদের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র।

ইরান-সমর্থিত হুতিদের দখল ঠেকাতে ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখায় অবস্থানরত ইয়েমেনি ব্যাটালিয়নগুলো গত বৃহস্পতিবার অনেকটাই অপ্রস্তুত ছিল। তাদের বাহিনীর তালিকায় এমন বিপুলসংখ্যক সেনার নাম ছিল, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই ছিল না। গতকাল শনিবার প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইয়েমেনে হুতিবিরোধী সামরিক অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন এক পশ্চিমা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, এসব ‘ঘোস্ট নেম’ বা ভুতুড়ে নামের সেনারাও বেতন পেতেন। এর ফলে কাগজে-কলমে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে প্রকৃত শক্তির তুলনায় অনেক বেশি বড় মনে হতো। কিন্তু বাস্তবে সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা কাগজে দেখানো সংখ্যার মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ ছিল বলে ওই সূত্র জানিয়েছেন।

হুতিদের মোখা দখলের সময় ইয়েমেনি বাহিনী কেন কার্যকর সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি, তা নিয়ে দায় চাপানো হচ্ছে ইয়েমেনের নেতাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ওপরও। সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই ব্যর্থতার জন্য বিভিন্ন পক্ষের আলাদা আলাদা দায় রয়েছে।

‘সৌদি-মার্কিনিদের ভয়াবহ মাত্রার ভুল’

সিএনএনের এক আঞ্চলিক সূত্র মোখার পতনকে ‘সৌদি-আমেরিকানদের ভয়াবহ মাত্রার ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ওই সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘এবার ব্যর্থতা ইয়েমেনিদের নয়। গতকাল সারাদিন সৌদি সমর্থনকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিমান হামলাও হয়নি, যদিও প্রতি মিনিটের পরিস্থিতি তাদের জানানো হচ্ছিল।’

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিরা অগ্রসর হতে পারে এমন আশঙ্কায় কয়েক সপ্তাহ আগেই সৌদি সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। এমনকি যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও নির্দেশ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিমান কমান্ডের কর্মকর্তাদেরও মোতায়েন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘সৌদিরা ইয়েমেনিদের বাসের নিচে ছুড়ে দিয়েছে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমকে বারবার সতর্ক করেছিলেন যে, ‘পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে উঠছে।’ ওই কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, সেন্টকম তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সৌদি বিমান সহায়তা আসছে।’ কিন্তু সেই বিমান সহায়তা শেষ পর্যন্ত আসেনি।

হুতিদের হামলার দিন বৃহস্পতিবার সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সমন্বয় বৈঠকের জন্য সৌদি আরবে ছিলেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন দুটি সূত্র। সেন্টকম অবশ্য ওই সফর হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করেনি। তবে সিএনএন এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক সদস্যরা ইয়েমেনে গঠিত নতুন একটি যৌথ বাহিনী কমান্ডের সঙ্গে কাজ করছিলেন। ইরান হুতিদের হামলায় সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পর এই যৌথ বাহিনী কমান্ড গঠন করা হয়েছিল।

তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক মোহাম্মদ আল-বাশা মনে করেন, মোখা রক্ষায় ব্যর্থতার মূল কারণ ইয়েমেনের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। তিনি আরব উপদ্বীপ নিয়ে মার্কিন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। বাশা সিএনএনকে বলেন, ‘এটি হুতিবিরোধী জোটের আরও গভীর একটি সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। এখানে কোনো রাজনৈতিক ঐক্য নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইয়েমেনে কোনো ঐক্যবদ্ধ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। আমার মনে হয়, পশ্চিম উপকূলের দিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা সম্পর্কে সবাই জানত। দেয়ালে লেখা ছিল খুবই স্পষ্ট।’ এরপর কী ঘটতে পারে জানতে চাইলে বাশা ধারণা করেন, হুতিরা পূর্ব দিকে আরও অগ্রসর হবে এবং ইয়েমেনের আরও ভেতরে ঢুকে পড়বে। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘আমরা আজ স্যাটেলাইট এবং ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বা ওএসআইএনটি অর্থাৎ উন্মুক্ত উৎসের গোয়েন্দা ছবি থেকে দেখছি...হুতিরা সেনা ও সামরিক শক্তি সংগঠিত করছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত